ডিপোর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাজ করছে সেনাবাহিনী

প্রকাশিতঃ 12:40 pm | June 05, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে শীতলপুর এলাকায় প্রায় ৭০ কানি জমিতে গড়ে ওঠা বিএম কনটেইনার ডিপোতে ৫০০ মিটারের একটি টিন শেডের ভেতর মজুদ ছিল বিপুল পরিমাণ ‘হাইড্রোজেন পার অক্সাইড’ নামের দাহ্য রাসায়নিক। এছাড়া আমদানি-রফতানি করা বিভিন্ন পণ্যও এ ডিপোতে রাখা হতো।

শনিবার (৪ জুন) রাতে আগুন লাগার পর রাত ১১টার দিকে সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বাইরে ছড়িয়ে যায়।

বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়া এসব কেমিক্যাল ড্রেন হয়ে সমুদ্রের পানিতে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রে কেমিক্যাল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম।

রোববার (৫ জুন) চট্রগ্রাম সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন-১-এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনিরা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুনে কেমিক্যাল যাতে ড্রেনের মাধ্যমে সমুদ্রে না ছড়াতে পারে, সেজন্য সেনাবাহিনীর বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করতে যাচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে কেমিক্যাল সমুদ্রে ছড়াতে পারে। এতে সমুদ্রের পানি এবং মৎস্য ও জলজ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে আমাদের এ উদ্যোগ।

এছাড়া উদ্ধার অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।

জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশও সহায়তা করছে। তাছাড়া, বিস্ফোরনে আহতদের সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম গতকাল রাত হতে কাজ করছে।

আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ও সিএমএইচ-এ স্থানাস্তরে সেনাবাহিনী এ্যাম্বুলেন্স সহায়তা করছে । এ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১৪ জন সদস্যসহ চট্টগ্রাম সিএমএইচে ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রবিবার (৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি চার শতাধিক। তাদের মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীও রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ এসেছে। লাশগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সকাল ৯টার পর যে লাশগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো চেনার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট করা লাগতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধিকাংশরাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের তথ্য আমাদের কাছে নেই। আহতদের মধ্যে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৮৪ জন। সেই সঙ্গে সিএমএইচ, বেসরকারি হাসপাতাল পার্ক ভিউ, ন্যাশনাল হাসপাতাল ও মেট্রোপলিটনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকে চিকিৎসাধীন আছেন। কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email