প্রথমবারই দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল আলো ছড়ানো মন্ত্রীরা

প্রকাশিতঃ 1:01 pm | March 04, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে যুগান্তকারী সব মাইলফলক অর্জন করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। উপহার দিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নত-সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশ। চতুর্থবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

বিশাল অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে পারমাণবিক বিশ্বে। ঠাঁই করে নিয়েছে মহাকাশেও। ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ অপবাদকে চ্যালেঞ্জ করে গোটা বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশকে।

দেশের মানুষের আকুন্ঠ সমর্থন নিয়ে নিজের বিচক্ষণ ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে দেশের উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান করেছেন। বহুল আকাঙ্খিত পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল চলতি বছরের জুনেই উদ্বোধনের কথা রয়েছে। জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং নানা চড়াই-উতরাই ও অন্ধকারের যুগ পেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশকে সামিল করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন দেশকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ‘চমক জাগানিয়া’ এবারের মন্ত্রীসভায় এমন অনেকেই রয়েছেন যারা প্রথমবারের মতো মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার অভিভাবকত্বে সাফল্যের সঙ্গেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নজরকাড়া পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে উন্নয়নের মহীসোপানে দুরন্ত গতিতে ছুটে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। ইস্পাত কঠিন আদর্শিক দৃঢ়তায় সব ষড়যন্ত্রের ব্যুহ ভেদ করেছেন। নিজেদের প্রমাণ করেছেন একদিন-প্রতিদিন।

মো.তাজুল ইসলাম
লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মো.তাজুল ইসলাম। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও ভোটের সাফল্য ধরে রাখেন। করেছেন হ্যাটট্রিক। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নিয়ে নানা বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্থা রাখেন চারবারের সংসদ সদস্য মো.তাজুল ইসলামের ওপর।

প্রথমবার অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েই তাজুল ইসলাম সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের কর্মপ্রবাহ সঞ্চালিত করেন মন্ত্রণালয়টিতে। স্থানীয় সরকারকে রূপ দিয়েছেন জনবান্ধব মন্ত্রণালয়ে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের। মন্ত্রীর বড় গুণ ভালো কাজে তিনি জনপ্রতিনিধিদের উৎসাহিত করেন এবং নেতিবাচক কাজে নিরুৎসাহিত করেন। কঠোর অ্যাকশন গ্রহণ করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করেছেন।

জেলা পরিষদ ও পৌরসভার খসড়া সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদে পাশ হয়েছে তাঁর বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের দৌলতেই। এক সময় ৩৮ টির বেশি পৌরসভা কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে পারতো না। মন্ত্রী এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। এখন বেশিরভাগ পৌরসভাই নিয়মিত কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয়ের বাইরেও যখন যে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছেন সেখানেই সফল হয়েছেন। ২০২১ সালের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে ড্যাপ চূড়ান্ত হয়েছে। রয়েছে গ্যাজেটের অপেক্ষায়। দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠা থাকলে যেকোন দায়িত্বেই সফল হওয়া যায় এমন একটি বড় উদাহরণ তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনায় ঋদ্ধ এই মন্ত্রী। বিরোধী দলের নেতিবাচক রাজনীতির গঠনমূলক সমালোচনাও উচ্চারিত হয় মন্ত্রীর কন্ঠে। তথ্য-উপাত্তের আলোকেই নান্দনিক উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের।

শ ম রেজাউল করিম
ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন শ ম রেজাউল করিম। নিজের বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলী নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোকিত করেছেন নিজেকে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন। দলের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের ‘মাইনাস শেখ হাসিনা’ ফর্মুলা রুখে দিয়েছিলেন। একজন আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যাকে।

২০১৮ সালের ভোটে পিরোজপুর-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শ ম রেজাউল করিম। নিজের নির্বাচনী এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে সাধারণের মনিকোঠরে ঠাঁই করাকেই প্রধান ব্রত করেছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও অনেক সঙ্কট সামাল দিয়েছেন। বিতর্কের উর্ধ্বে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন মন্ত্রণালয়টিকে। পরবর্তীতে তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন হারিয়ে যাবেন শ ম রেজাউল করিম। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে সফল হওয়া যায় এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। একটি অনুজ্জ্বল মন্ত্রণালয়কে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন।

করোনা মহামারির প্রথম ওয়েভ মোকাবেলায় মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিদের বাঁচাতে আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করেন। পরেরবার আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে ভিন্নভাবে মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিদের পাশে দাঁড়ান। খামারিদের রক্ষায় দেশজুড়ে চালু করেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় কর্মরত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্যোগে পরিচালিত হয় ওইসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র। এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশের খামারিরা তাদের মৎস্য ও প্রাণিজ পণ্য ন্যায্যমূল্যেই বিক্রি করতে সক্ষম হন। তাঁর সময়ে মৎস্যখাতে স্বর্ণালী অধ্যায় সৃষ্টি করে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রাণীর মৃত্যুসহ দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় অপত্যাশিতভাবে বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনার সুলুক সন্ধান করতে সারপ্রাইজ ভিজিটে বের হয়ে দেশবাসীর কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তাঁর তাৎক্ষণিক অ্যাকশন ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে নেটিজেনরাও। কিন্তু ঈর্ষার মুখে পড়েন নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় বিরুদ্ধবাদীদের। তাঁরা গোয়েবলসীয় কায়দায় মন্ত্রীর সাফল্যকে ম্লান করতে ঘৃণ্য কায়দায় তাকে হেনস্থার অপকৌশল গ্রহণ করে। কিন্তু টু দ্য পয়েন্টে সত্য উচ্চারণের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতি প্রতিহত করেন শ ম রেজাউল করিম। ভেস্তে দেন ষড়যন্ত্রকারীদের ‘টার্গেট’। একজন ক্লিনম্যান হিসেবেই দিনশেষে স্বীকৃতি মিলেছে এই মন্ত্রীর।

সাধন চন্দ্র মজুমদার
তৃণমূল থেকেই উঠে আসা বর্ষীয়াণ রাজনীতিক সাধন চন্দ্র মজুমদার। নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। প্রবল আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ‘ভাবমূর্তি’ পুনরুদ্ধারে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

করোনায় অর্থনৈতিক স্থবিরতার জেরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কর্মহীনতা ও দারিদ্র্যতা দেখা দিতে পারে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পড়তে পারে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটে। এমন শঙ্কায় সরকার আগেভাগেই খাদ্য নিরাপত্তায় জোর দিয়েছিলো। দুর্যোগকালীন এই সময়ে মানুষ যাতে খাদ্য সঙ্কটে না ভুগে সেজন্য আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাহ্বা কুড়িয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। সমান গতিতেই সামাল দিয়েছেন নিজের নির্বাচনী এলাকা ও মন্ত্রণালয়। সারাদেশে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সময়ে সময়ে আকস্মিক ভিজিটে বের হয়েছেন। চমকে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে আলোকিত করেছেন নিজেকে।

ডা. এনামুর রহমান এমপি
সাভার-আশুলিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডা: এনামুর রহমান। ওই সময় তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যালট বিপ্লবে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর হাত ধরেই মন্ত্রীত্বের ভাগ্যে শিঁকেয় ছিঁড়ে সাভার-আশুলিয়াবাসীর। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা: এনামুর রহমানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজায় শত শত হতাহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে বিশ্বে ‘মানবতার দূত’ হিসেবে প্রস্ফুটিত করেছিলেন নিজেকে। প্রতিমন্ত্রীর পথযাত্রাতেও চমক দেখিয়েছেন। দুর্নীতি করলে পার পাবে না-বারবার এই বার্তা দিয়েছেন নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমানের তত্ত্বাবধানে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বে ‘আদর্শ দেশ’ হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মুজিববর্ষে মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। জাতিসংঘের জনসেবা পদকে ভূষিত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়। গত বছরের সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে জাতিসংঘ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান এই পদক গ্রহণ করেন।

কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক
মর্যাদাপূর্ণ বরিশাল-৫ (সদর-মহানগর) আসন থেকে প্রথমবারের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে নির্বাচিত হন দেশপ্রেমিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক। অধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বারবার ষড়যন্ত্রকারীদের কূপানলে পড়েন তিনি। কিন্তু কখনও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে পথ চলেননি। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই রাজনীতিককে গত ভোটে দলীয় মনোনয়ন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক বিজয়মাল্যে ভূষিত হয়ে আসনটি উপহার দেন বঙ্গবন্ধুকন্যাকে। নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন।

অতীত সময়ে এখানকার সংসদ সদস্যরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে নজর দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক উন্নয়ন স্পর্শে বদলে দিতে চান বরিশাল-৫ আসনটিকে। এক্ষেত্রেও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। মাসখানেক আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ১১টি কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। কিন্তু এতো কিছুর পরেও থেমে নেই ষড়যন্ত্র। কিন্তু নিজ এলাকার ভোটার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের হৃদয়গ্রোথিত আবেগ-ভালোবাসায় চালকের আসনেই রয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফারুক। কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এই মানুষটি সততা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে কাজ করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নব উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছেন। প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে নানাভাবেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে না থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। দুর্নীতি নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন। বন্যা ও আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সফলতার পরিচয় দেন। মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকাকে নিরাপদ রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন বারবার। দেশের ৬৪ জেলায় ৪৩২টি খাল খননের কার্যক্রম শুরু করেছেন। উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ৫শ’ নদী খননের কাজ।

ফরহাদ হোসেন
মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক মো.ফরহাদ হোসেন। তাঁর বাবা প্রয়াত ছহিউদ্দীন বিশ্বাস ছিলেন মহাকাব্য যুগের রাজনীতিতে মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। ফরহাদ হোসেন নিজেও সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগকে। মেহেরপুর-১ আসন থেকে টানা দু’বার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। কাজের প্রতি তিনি শতভাগ আন্তরিক।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চিন্তা-চেতনা, মননশীলতায় ও মেধায় জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নিবেদিত থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তোলার মিশনেও অগ্রভাগেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। যথাযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবেই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছেন। জেলা প্রশাসক নিয়োগে বিতর্ককে শুণ্যে নামিয়ে এনেছেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুনদের আগমন ঘটে। অনেক মেধাবী তরুণসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের মেধা মননকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেছেন। তেমনই একজন রাজনীতিক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছাত্রজীবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগকে। ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। সেখান থেকে এখন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালেই নদীর দু’পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আলোচিত হয়েছেন। রাজনীতিতে মার্জিত, ভদ্র এবং কর্তব্যপরায়ণ একজন ব্যক্তি হিসাবে তিনি ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাকে আগামী দিনের তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কালের আলো/বিএসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email