হলমার্ক কেলেঙ্কারির ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ব্ল্যাকমেইল, আটক ২

প্রকাশিতঃ 11:02 am | September 02, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো:

আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এই চক্রের প্রধান পরিকল্পনাকারী বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সাংবাদিক মো. ইকবাল হোসেন (৩১) ও তার সহযোগী মো. আমিরুল ইসলাম (৩৫)।

গ্রেফতার আসামিরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হলমার্ক কেলেঙ্কারির আসামি আব্দুল মালেককে ব্লাকমেইল করে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা না দিলে মিডিয়াতে হলমার্ক কেলেঙ্কারির প্রতিবেদন প্রকাশ করার হুমকিও দেয় কথিত এই দুই সাংবাদিক।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মালেকের বিরুদ্ধে হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও অপরাধীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্রটি। বেশ কিছুদিন ধরে দেশের নামিদামি বেসরকারি টেলিভিশন ও নামসর্বস্ব পত্রিকার নাম ব্যবহার করে রাজধানীর উত্তরায় চক্রটি তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালাচ্ছিল। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা ও বেসরকারি একটি টেলিভিশনের বুম, পাঁচ লাখ টাকা, তিনটি একশ টাকার স্টাম্প, দুইটি ব্যাংকের (৪৫ লাখ ও ৫০ লাখ টাকার) চেক জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ৩১ আগস্ট দুপুরে আব্দুল মালেককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে একটি চক্র। এমন অভিযোগে র‍্যাব তাকে (ভুক্তভোগী) উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। একই দিন বিকেলে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মালেককে উদ্ধার করা হয়। এসময় পরিকল্পনাকারী ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগী আমিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

কমান্ডার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা জানিয়েছে, তারা মালেককে ব্ল্যাকমেইল করতে বেশ কয়েকদিন তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সে কখন উত্তরখানে আসবে তখন অপহরণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল তারা। ঘটনার দিন দুপুরে মালেক উত্তরখানে তার আত্মীয়ের বাসায় গেলে পরিকল্পনাকারীরা সেখানে যায়। এসময় তারা এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে মিডিয়াতে হলমার্ক কেলেঙ্কারি বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে মালেককে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর স্বজনদের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা কোটি টাকা, চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে আসতে বলা হয়।

তিনি বলেন, অভিযুক্তরা একটি চাঁদাবাজ দলের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের দলে ১০-১৫ জন সদস্য আছে বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে।

চক্রের সদস্যরা এলাকায় প্রাণের বাংলাদেশ, স্বাধীন সংবাদ, বি ডাব্লিউ নিউজ, প্রথম বেলা, ডেইলি নিউজসহ আরও কয়েকটি সংবাদপত্রের পরিচয় দিত।

খন্দকার আল মঈন বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর উত্তরা ও উত্তরখান এলাকায় এসব সংবাদপত্রের পরিচয় দিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অপরাধী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। ইকবাল হোসেন ও আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা বেসরকারি ওই টেলিভিশনে যোগযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে- চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে সাংবাদিক ইকবালকে কয়েক মাস আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএসকে/এমএম

Print Friendly, PDF & Email