Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

ঈগল, মাছি নাকি ম্যান্টিস শ্রিম্প—কার চোখ প্রাণিজগতের বিস্ময়?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

ঈগল, মাছি নাকি ম্যান্টিস শ্রিম্প—কার চোখ প্রাণিজগতের বিস্ময়?

পৃথিবীকে আমরা যেভাবে দেখি, অন্য প্রাণীরা কিন্তু ঠিক সেভাবে দেখে না। কারও চোখ দূরের ক্ষুদ্র শিকারও খুঁজে বের করতে পারে, কেউ দেখতে পায় মানুষের অদৃশ্য রং, আবার কোনো প্রাণী চোখের পলকে বুঝে ফেলে বিপদ কোন দিকে। তাই ‘সবচেয়ে ভালো চোখ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে উত্তরও বদলে যায়।

দূরের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতার দিক থেকে শিকারি পাখিরা প্রকৃতির অন্যতম সেরা। রং শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ম্যান্টিস শ্রিম্পের মতো সামুদ্রিক প্রাণী। আর দ্রুত নড়াচড়া শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক পোকামাকড়ের চোখ অসাধারণ দক্ষ।

দূরের শিকার দেখতে ঈগল-বাজের জুড়ি নেই
ঈগল, বাজ ও ফ্যালকনের মতো শিকারি পাখি আকাশে অনেক উঁচুতে উড়েও মাটিতে থাকা ছোট প্রাণী দেখতে পারে। তাদের চোখের গঠন ও আলো শনাক্তকারী কোষের ঘনত্ব দূরের দৃশ্যকে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট করে তোলে।

মানুষের তুলনায় কিছু শিকারি পাখির দৃষ্টিশক্তি কয়েক গুণ বেশি তীক্ষ্ণ হতে পারে। ফলে দূরে থাকা শিকার, এমনকি মাটির রঙের সঙ্গে মিশে থাকা ছোট প্রাণীও তাদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। বড় চোখ, বিশেষায়িত রেটিনা এবং আলো শনাক্ত করার উন্নত ব্যবস্থা তাদের এই দক্ষতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে বেশি রং দেখে ম্যান্টিস শ্রিম্প?
রং দেখার ক্ষেত্রে মানুষের চোখে সাধারণত তিন ধরনের রং শনাক্তকারী কোষ থাকে—লাল, সবুজ ও নীল আলোর প্রতি সংবেদনশীল। কিন্তু ম্যান্টিস শ্রিম্পের চোখে রয়েছে আরও অনেক ধরনের ফোটোরিসেপ্টর। বিভিন্ন প্রজাতির এই সামুদ্রিক প্রাণী অতিবেগুনি আলোসহ এমন কিছু আলোর বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না।

ম্যান্টিস শ্রিম্পের চোখ আলো কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিও বুঝতে পারে। তবে বেশি ধরনের ফোটোরিসেপ্টর থাকলেই যে প্রাণীটি মানুষের চেয়ে সব রং আরও নিখুঁতভাবে আলাদা করতে পারে, বিষয়টি এত সরল নয়। গবেষকদের ধারণা, এরা রঙের সূক্ষ্ম পার্থক্য বিশ্লেষণের বদলে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রঙের সংকেত দ্রুত শনাক্ত করতে পারে।

মাছি এত দ্রুত পালিয়ে যায় কেন?
মাছিকে ধরতে গেলেই দেখা যায়, হাত বাড়ানোর আগেই সেটি উড়ে পালিয়েছে। এর একটি কারণ হলো, মাছির চোখ দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য ও নড়াচড়া শনাক্ত করতে অত্যন্ত দক্ষ।

মানুষের চোখের তুলনায় অনেক পোকামাকড় দ্রুত আলোর পরিবর্তন ও গতিবিধি বুঝতে পারে। ফলে মানুষের কাছে যে নড়াচড়া খুব দ্রুত মনে হয়, মাছির কাছে তা তুলনামূলকভাবে ধীরগতির হতে পারে। বিপদের সংকেত দ্রুত শনাক্ত করার এই ক্ষমতা তাদের বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মাছির চোখ মানুষের চোখের মতো একটানা স্পষ্ট ছবি তৈরি করে না। তাদের চোখ অনেক ছোট ছোট অংশ দিয়ে গঠিত, যাকে বলা হয় কম্পাউন্ড চোখ। এই গঠন দ্রুত নড়াচড়া শনাক্ত করতে সহায়তা করলেও দৃশ্যের সূক্ষ্ম বিবরণ দেখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

মানুষের চোখও কম দক্ষ নয়
দূরের শিকার, অতিবেগুনি আলো কিংবা দ্রুত নড়াচড়া শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু প্রাণী মানুষের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও মানুষের চোখের রয়েছে নিজস্ব সুবিধা। আমরা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও বিস্তারিত ছবি দেখতে পারি, রং শনাক্ত করতে পারি এবং বিভিন্ন দূরত্বের দৃশ্যের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারি।

প্রকৃতিতে কোনো একটি প্রাণীর চোখকে সব দিক থেকে ‘সেরা’ বলা কঠিন। কারণ প্রতিটি প্রাণীর দৃষ্টিশক্তি তৈরি হয়েছে তার জীবনযাপন, খাদ্য সংগ্রহ ও বিপদ থেকে বাঁচার প্রয়োজন অনুযায়ী। ঈগল দূরের শিকার খুঁজে পায়, ম্যান্টিস শ্রিম্প আলোর ভিন্ন বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে, আর মাছি দ্রুত বিপদ বুঝে পালিয়ে যায়। চোখের এই বৈচিত্র্যই প্রাণিজগতকে করে তুলেছে বিস্ময়কর।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!