করোনায় কৃষকের ক্ষতি ৫৬৫৩৬ কোটি টাকা

প্রকাশিতঃ 10:56 am | June 06, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের কৃষকের ক্ষতি হয়েছে ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এসব কৃষকের ৯৫ শতাংই এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। খাতভিত্তিক হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিরা।

টানা দু’মাসের ছুটিতে দেশের কৃষকদের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ থাকা এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে ব্র্যাকের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশের ৬৪ জেলার ১ হাজার ৫৮১ জন কৃষকের ফসল, শাকসবজি, হাঁস-মুরগি ও মাছ এবং দুগ্ধ উৎপাদনের ওপর গবেষণাটি করেছে ব্র্যাক। গবেষণা বলছে, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে পরের দেড় মাসে পণ্যের ক্ষতি ও কম দামের কারণে প্রত্যেক কৃষকের লোকসান হয়েছে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৯৭৬ টাকা। সেই হিসাবে সারাদেশে কৃষির প্রতিটি উপখাতের সব কৃষকের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে ওই দেড় মাসে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

গত বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম এ সাত্তার ম-ল, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা, এসিআই অ্যাগ্রিবিজনেসের নির্বাহী পরিচালক এফএইচ আনসারী এবং ব্র্যাকের ডেইরি অ্যান্ড ফুড এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। এ ছাড়া অনলাইনে

যুক্ত হয়ে দুজন কৃষক তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ।

গবেষণায় দেখা গেছে, সংকট থেকে উত্তরণে সহজ শর্তে সরকারি ঋণ পেতে চান ৬৬ শতাংশ কৃষক। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিতের কথা বলেছেন ৫৬ শতাংশ কৃষক। আর কম খরচে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ চান ৪৮ শতাংশ কৃষক। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ কৃষক সরকারঘোষিত প্রণোদনার কথা জানেন। তবে এ সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে ৭৯ শতাংশ কৃষকের ধারণা নেই বা ভুল ধারণা আছে।

ব্র্যাকের সমীক্ষা অনুযায়ী, সরকারি ছুটির কারণে রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় পোলট্রি খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, মুরগির দাম কমে যায় ৪৪ শতাংশ। দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকের পণ্যের চাহিদা ৩৩ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যায় এবং খুচরা স্তরে গড়ে দাম সাড়ে ১২ শতাংশ কমে যায়। দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের ১৬ শতাংশ তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। সংকট নিরসনে গবেষণার সুপারিশে

বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণ ব্যবস্থাকে কৃষকবান্ধব করা, সৃজনশীল বিতরণ ব্যবস্থা প্রবর্তন, এমএফএস ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা বাড়িয়ে বাজারকে প্রাণবন্ত রাখতে নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার এবং ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে সরাসরি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন অন্যতম।

কালের আলো/এসএ/বিএস

Print Friendly, PDF & Email