অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকরা

প্রকাশিতঃ 12:58 pm | November 19, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ

নতুন আইনের কারণে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনটি বলছে, লাইট লাইসেন্স দিয়ে ভারী গাড়ি চালানো যায় না। কিন্তু ভারী গাড়ি চালানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) লাইসেন্সও দিচ্ছে না। লাইট লাইসেন্স দিয়ে ভারী গাড়ি চালাতে গেলেই জরিমানা করা হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। এই টাকা একজন শ্রমিক কীভাবে দেবে? তাই চালকরা গাড়ি চালাবেন না।

আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাক-ড্রাইভার ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নতুন আইনে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকরা গাড়ি চালাবেন না। কিছু হলেই জরিমানা করা হবে ২৫ হাজার টাকা। আছে মামলা। এর ওপর আবার চালকের লাইসেন্সের ওপর পয়েন্ট কাটা হবে। এসব কারণে চালকরা আর গাড়ি চালাবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে আইনটা হয়েছে তা বাংলাদেশে চলে না। কারণ এ আইন করার আগে তো আপনাকে সব ধরনের অবকাঠামো ঠিক করা উচিত ছিল। রাস্তাঘাট ঠিক নাই, আপনি আইন করলে তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।’

বিআরটিএ সহজে লাইসেন্স দিচ্ছে না অভিযোগ করে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘লাইট লাইসেন্স দিয়ে অধিকাংশরাই বড় গাড়ি চালাচ্ছেন। এটা কেউ বলে না যে, বড় গাড়ি চালাচ্ছে তার বড় গাড়িরই লাইসেন্স প্রাপ্ত। কিন্তু তাকে দেয়া হচ্ছে লাইট লাইসেন্স। সেই লাইসেন্স নিয়ে একজন ড্রাইভার রাস্তায় নামবে আর জরিমানা করা হবে ২৫ হাজার টাকা। একজন চালক কি অত টাকা বেতন পায় এই বাজারে? তাহলে সেই চালক কীভাবে ওই জরিমানা দেবে?’

তিনি বলেন, ‘আমরা এসবের সমন্বয় দাবি করেছি কিন্তু পাইনি। নতুন আইন (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮) কার্যকর ও প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাই ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকরা আর গাড়ি চালাবেন না। আগামীকাল সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হবে।’

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে গত ১ নভেম্বর। তবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে গতকাল (১৮ নভেম্বর) থেকে। নতুন আইনটি বাস্তবায়নের প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। নতুন আইন প্রয়োগের প্রথম দিন গতকাল সোমবার রাজধানীতে আটটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রথম দিনই রাজধানীর সড়কে দেখা গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম।

কালের আলো/এনএল/এনএইচ

Print Friendly, PDF & Email