পদ হারালেন শোভন-রাব্বানী, দায়িত্বে নাহিয়ান-লেখক ভট্টাচার্য

প্রকাশিতঃ 9:49 pm | September 14, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

গুঞ্জন-গুঞ্জরণ ছিল। অধীর অপেক্ষা ছিল। অবশেষে সেই প্রতিক্ষার অবসানও হলো। দায়িত্বে পালনে ব্যর্থতাসহ নানা অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারালেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের নবযাত্রা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার জয়ের

তাদের পরিবর্তে আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও এক নম্বর সহ-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে। কালের আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গণভবনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

শনিবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এর আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের কাছে সাবেক তিন কমিটির নেতাদের প্রত্যাশা

গত শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ উঠলে কমিটি ভেঙে দিতে বলেন শেখ হাসিনা। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, শেখ হাসিনা ভীষণ ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের ওপর।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, শেখ হাসিনা বলেছেন– ‘আমি ছাত্রলীগের এমন নেতা চাই না, যাদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।’

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ছাত্রলীগের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেন সেদিন।

গত বছর ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার পর ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

সেদিন রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন। তারপর দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও প্রায় ১০ মাস পর ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুই বছর মেয়াদি নতুন এই কমিটি ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাতও সৃষ্টি হয়।

এরপর ছাত্রলীগের এ দুই নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।

কালের আলো/বিএ/এনএল

Print Friendly, PDF & Email