Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

সিলেট সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে পরাজিত শক্তি: রিজভী

সিলেট সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে পরাজিত শক্তি: রিজভী

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেছেন, পরাজিত একটি শক্তি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত ও উসকানি দিয়ে রাজপথে নামানোর চেষ্টা করছে। এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, শ্রমিক আন্দোলনে হস্তক্ষেপ ও উসকানি দেওয়ার সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিজেই প্রকাশ করেছেন।

আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট সফরকালে নগরের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে একটি পক্ষের হস্তক্ষেপ ও উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। গতকাল ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভীর অভিযোগ, পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের ইন্ধনে শ্রমিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ মদদ দিচ্ছে কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

রাজনৈতিক সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান
রাজনৈতিক বিরোধ ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, যেসব সমস্যার সমাধান সংসদে কিংবা আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব, সেগুলো রাজপথে নিয়ে গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন কী?

লংমার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির কারণে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ যুক্ত হচ্ছে। এসব বক্তব্য ও কর্মসূচি পরোক্ষভাবে আন্দোলনকে সমর্থন জোগাচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আরেকটি বিপ্লব’ মন্তব্যের সমালোচনা
ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ মন্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, কোন বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে? একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এই সময়ের মধ্যে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগকে উপেক্ষা করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। এ সময়ে দলের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছেন, অনেকে জীবন উৎসর্গ করেছেন। যারা নতুন বিপ্লবের কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রিজভীর অভিযোগ, পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে নানা ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ও উসকানি দিচ্ছে। তাদের কথায় বা সমর্থনে গিয়ে কারও মঙ্গল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের দাবি
দেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তারা কোনো চোরাপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার রাজনীতি সমর্থন করে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, জেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে ও দলীয় প্রতীকে আয়োজনের বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, কোন এলাকায় কার জনপ্রিয়তা বেশি এবং কার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে প্রার্থী নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা ও ভোট গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, রেড ক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!