ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলো তিন ছেলে!

প্রকাশিতঃ 9:40 am | January 12, 2021

ডেস্ক রিপোর্ট, কালের আলোই:

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে লটারির মাধ্যমে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) অনলাইনে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর অনলাইন দোকানগুলোতে ছিল অভিভাবকদের ভিড়।

তবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলাফলের তালিকায় দেখা গেল তিনজন ছেলের নাম। বালিকা বিদ্যালয় হলেও তারা লটারিতে চান্স পেয়েছে এখানে।

ফায়াজ জাহাঙ্গীর ইশমাম, মো. জোবায়েরুল হাসান খান ও ফারাবী ইসলাম নামের এই তিনজন চতুর্থ শ্রেণিতে মর্নিং শিফটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বলে ফলাফল শিট বলছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা। চার ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তির সুযোগের ঘটনায় চলছে হাস্যরসও।

ময়মনসিংহের সচেতন নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবী আলী ইউসুফ এ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিদ্যাময়ীতে যেই ছেলে চান্স পাইছে তার ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। লটারি তাকে মেয়েদের সাথে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে।’

নাট্যকর্মী ও সংগঠক আবুল মনসুর নামে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের সময় বা তার আগে পরে বিদ্যাময়ীতে গিয়ে পড়ার জন্য আমরা মুখিয়ে থাকতাম, কোন কাজের ছুতাতে ওখানে যেতে পারলে নিজেকে বীর হিসেবে মনে করতাম। আজকে সে ভাগ্যের জোরে ওখানে পড়ার সুযোগ পেলো। বাজানরে তুই আমাদের পূর্বের স্বপ্নকে পূরণ করলি, তোকে প্রাক্তন জিলাস্কুলিয়ান হিসেবে অভিনন্দন। জাতির মেধা নষ্ট করার জন্য লটারি নামক খেলার জন্য ধিক্কার জানাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বুদ্ধিজীবীদের। এখন মেধার বিচার রইলো না, ভাগ্য যার মেধা তার।’

নাদিরা আক্তার মিতু নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবার ছেলে হয়েও বিদ্যাময়ীতে চান্স পাওয়ার গৌরব অর্জন করলো ভাইটি Congratulations Brother হাজার কাঁটার ভিড়ে একটি গোলাপ হয়ে বেঁচে থাকো।’

সাদিয়া জামান নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কপাইল্লা বাজানতো একখান না, তিনখান পাইলাম। হ্যাজাক জ্বালায়া খুঁজলে মনে হয় আরও পাওয়া যাবে। ২৭৭ জন বোনের তিনটা মাত্র ভাই। আজ লটারি ছিলো বলেই এভাবে ভাই বোন মিলেমিশে বিদ্যাময়ী গার্লস স্কুলে পড়ার সুযোগ পেলো।’

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অভিভাবকদের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, সঠিকভাবে ফরম পুরণ করে থাকলে এমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে কারিগরি ত্রুটি কিংবা ফরম পূরণের ভুলের কারনে এমন হতে পারে।

কালের আলো/এসবি/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email