রেল স্টেশনে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বাঁশের ব্যারিকেড

প্রকাশিতঃ 7:22 pm | March 30, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ট্রেনে যাত্রী সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চাহিদা রয়েছে। যে কারণে প্রতিবছরই ঈদে বিশৃঙ্খলা দেখা যায় স্টেশনগুলোতে। টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভ্রমণ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা দূর করতে গত দুই বছর ধরে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরপরেও বিশৃঙ্খলার যেন শেষ নেই। বিনা টিকিটে ভ্রমণ, একজনের সিটে আরেকজনের ভ্রমণের মতো পরিস্থিতি শুরু হয় ভ্রমণকে কেন্দ্র করে।

ঈদ ঘনিয়ে এলে স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভীড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষের। এবার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার কমলাপুরে রেলওয়ে স্টেশনসহ চারটি স্টেশনে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে কিন্তু রেলের সমক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকায় এর বিকল্প কিছু করার নেই।

শনিবার (৩০ মার্চ) রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দুই ধাপে বাঁশ দিয়ে যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী প্রবেশ ও বাহিরের পথ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পথটি একদম টিকিট কাউন্টারের সামনে মিলেছে। যেখান থেকে যাত্রীরা ট্রেন ঢাকা স্টেশন ছেড়ে দেওয়া আগে স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনতে পারবেন। তারপরের তিনটি পথ দিয়ে মূলত যাত্রীরা স্টেশনের অংশে প্রবেশ করতে পারবেন। আর ট্রেন থেকে নেমে বাইরে বের হওয়ার পন্য আরও দুইটি পথ রাখা হয়েছে। বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী প্রবেশ করা হয়েছে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনসহ আরও দুই স্টেশনে। এদিকে ঈদযাত্রায় হয়রানি ঠেকাতে বাড়ানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। বসানো হয়েছে র‍্যাব ও পুলিশের আলাদা কন্ট্রোল রুম। কোনো যাত্রীকে সন্দেহ মনে হলে চেক করা হচ্ছে।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘যাত্রীদের হয়রানি কমাতেই আমরা শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছি। আপনারা দেখতে পাবেন স্টেশনে কোনো ভিড় নেই। একটি সময় ছিল মানুষ দিন রাত টিকিটের জন্য স্টেশনে কাটিয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে চাই। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। একজন যাত্রী টিকিট কেটে ভ্রমণ করতে পারবেন না সেই পরিস্থিতি আমরা হতে দিতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘বাঁশ নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু রাতারাতিও রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয় না।’

এদিকে আগামী ৩ এপ্রিল ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে ট্রেনে ঈদযাত্রা। ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫০০টি। গত বছরের চেয়ে এবার আসন বেড়েছে ৪ হাজার ৭২২টি।

এবার ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় গত ২৪ মার্চ। আর শেষ হয় ৩০ মার্চ। অন্যদিকে ফেরার জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ এপ্রিল আর শেষ হবে ৯ এপ্রিল। আর ঈদযাত্রা শুরু হচ্ছে ৩ এপ্রিল থেকে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email