দুলাভাই-শ্যালকের ‘দুদক ফাঁদ’, হাতিয়েছে বিপুল অর্থ

প্রকাশিতঃ 6:02 pm | March 25, 2024

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট বানানো হতো। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে সাংবাদিক পরিচয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা হয়েছে এমন তথ্য জানিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো হতো। এর কিছুদিন পরে দুদকের সহকারী পরিচালক পরিচয়ে ফোন করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ঘুরিয়ে দেওয়া হবে— এমন আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

সম্প্রতি দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতরাণার ঘটনায় দুদক বাদী হয়ে ডিএমপির রমনা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় কয়েকটি মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়। এরই সূত্র ধরে মামলার তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ভয়ঙ্কর সব তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

ডিবি লালবাগ বিভাগ বলছে, শ্যালক-দুলাভাইসহ পারিবারিক এই প্রতারক চক্রটি কখনও সাংবাদিক, আবার কখনো দুদক কর্মকর্তা সেজে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। আর এই পরিচয়ের জন্য তারা বিভিন্ন পত্রিকা, টেলিভিশনের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও ভিজিটিং কার্ড এবং দুদক কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করতেন।

অভিযুক্তরা হলেন- চক্রের মূলহোতা ফিরোজ খান, তার শ্যালক হাসান মুন্না ও মুন্নার শ্যালক রিয়াজ। তাদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়।

অভিযানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র, ভিজিটিং কার্ড, বিভিন্ন মডেলের ১১টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটের ২৯টি সিম কার্ড ও দুদক কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রথমে সাংবাদিক ও দুদকের সহকারী পরিচালক পরিচয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, ওয়ার্ড কমিশনারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংবাদ প্রকাশ হলে তারা সেই নিউজের বিস্তারিত জেনে নিত।

পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সাংবাদিক পরিচয়ে নিউজের বিষয়ে জানিয়ে সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে নানাভাবে আলোচনা করে। এরপর দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত। তাদের ব্যবহার করা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নম্বরগুলো বেনামে রেজিস্ট্রেশন করা।

গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার প্রতারকদের বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, তাদের কাছে এনটিভির সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার, কখনও এসএটিভির সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টারসহ একাধিক টিভি ও পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসব প্রতারণা করত।

হারুন অর রশীদ বলেন, রমনা থানায় হওয়া মামলায় দুদকের উল্লেখিত ছয়টি সিম নম্বর সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানে প্রতারকদের কাছ থেকে তিনটি সিম জব্দ করা হয়, যেগুলো দুদক পরিচয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হতো। এই চক্রটির বিরুদ্ধে একই অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা চার দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তাদের প্রতারণার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএইচ/এসবি

Print Friendly, PDF & Email