রোজাদারদের সম্মানে জান্নাতে বিশেষ যে দরজা রয়েছে

প্রকাশিতঃ 12:32 pm | March 16, 2024

মাহমুদ আহমদ:

আলহামদুলিল্লাহ! আজ পবিত্র মাহে রমজানের রহমতের দশকের পঞ্চম দিনের রোজা রাখার সৌভাগ্য পাচ্ছি। পবিত্র এ মাসের রোজার মধ্যে এতই বরকত ও কল্যাণ রয়েছে যে, ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এছাড়া রোজার পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহতায়ালা দিবেন বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

এছাড়া রোজার গুরুত্ব এতই ব্যাপক যে, রোজাদারদের সম্মানে জান্নাতে বিশেষ দরজা রাখা হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মহানবি (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। তাদের প্রবেশের পর এ দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের শেষদিকে একদিন সাহাবায়ে কেরামদের লক্ষ্য করে মাহে রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘হে মানবসমাজ! তোমাদের ওপর একটি মহান মোবারক মাস ছায়া ফেলেছে। এই মাসে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রজনী আছে। যে ব্যক্তি এই মাসে নেক আমল দ্বারা আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য লাভের কামনা করে, সে যেন অন্য সময়ে কোনো ফরজ আদায় করার মতো কাজ করল। আর এই মাসে যে ব্যক্তি কোনো ফরজ কাজ আদায় করল, সে যেন অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আদায়ের নেকি অর্জন করার সমতুল্য কাজ করল। এটি সংযমের মাস। ধৈয্যের মাস। আর ধৈয্যের ফল হচ্ছে জান্নাত।’ [বায়হাকি]

পবিত্র মাহে রমজানের রোজা কেবলমাত্র আধ্যাত্মিক কল্যাণই লাভ হয় না বরং এতে দৈহিক শক্তিরও বিকাশ ঘটে। তাইতো রোজা পালন সম্পর্কে যেমন রয়েছে মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশ, অন্যদিকে রয়েছে অসংখ্য পার্থিব কল্যাণ। এছাড়াও রোজা যে মানব জাতির রোগমুক্তির কারণ, তা বহু হাদিসে প্রমাণিত আর আজ চিকিৎসা বিজ্ঞানও রোজার অপরিহার্যতা স্বীকার করে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের খোদা বলেছেন, প্রত্যেক নেকীর প্রতিদান দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত আর রোজার ইবাদত বিশেষ ভাবে আমার জন্য আর আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দিব অথবা আমি স্বয়ং এর প্রতিদান হব’ (তিরমিজি, আবওয়াবুস সাওম)।

বিনা কারণে রোজা পরিত্যাগ করলে আজীবন সেই রোজার সমতুল্য হবে না। যেভাবে হজরত মহানবি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে- সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে তবু ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস )

হজরত রাসুল করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনরা এ মাসে (সারা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।’ (মুসনাদে আহমদ)

মহানবি (সা.) আরো বলেছেন, “আল্লাহ্ তাআলা বলেন- ‘রোজা আমারই জন্য। আমি নিজে এর প্রতিদান দেব। আমার বান্দা আমার জন্য পানাহার ছেড়ে দেয়, কামনা-বাসনা ছেড়ে দেয়। রোজাদারের জন্য দু’টি খুশি। একটি খুশি ইফতারের সময়। আরেকটি খুশি আমার সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময়। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধের চেয়েও উত্তম।” (বুখারি)

রমজানের রোজার মাধ্যমে একদিকে আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা লাভ করা যায় অপর দিকে দৈহিকভাবেও সুস্থ্য থাকা যায়। এছাড়া আমরা সাধারণত দেখতে পাই এ কল্যাণময় রমজান মাসে রোগব্যাধি অনেকটা কম প্রকাশ পায়।

পবিত্র এ মাহে রমজান গুনাহ মাফ হওয়া ও দোয়া কবুলের বিশেষ মাস। এই পবিত্র মাসে ফেরেশতারা মানুষের উদ্দেশে প্রতিদিন বলেন, ‘হে কল্যাণপ্রত্যাশী! আল্লাহতায়ালার কথা স্মরণ করো, তাঁর ইবাদত বন্দেগিতে রত হও এবং একনিষ্ঠ মনে তাওবা করো। তোমরা এই মাসে যা কামনা করবে ও প্রার্থনা করবে-আল্লাহতায়ালা তা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)
এককথায় রোজা রাখার ফলে আমরা যেভাবে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করতে পারি অপর দিকে দৈহিকভাবেও কিন্তু আমরা অন্যান্য মাসের তুলনায় সুস্থ্য থাকি। তাই রোজা দৈহিক এবং আধ্যাত্মিক উভয় দিক থেকে কল্যাণকর।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের দিনগুলো বিশেষ ইবাদতে রত থেকে অতিবাহিত করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গবেষক।

Print Friendly, PDF & Email