প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় এসএসএফ ডিজি

প্রকাশিতঃ 11:21 pm | June 15, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) প্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় এই নিরাপত্তা বাহিনীটি বর্তমান বিশ্বে একটি অত্যাধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী নিরাপত্তা বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এসএসএফ’র মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.মজিবুর রহমান। তিনি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফকে দক্ষ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘গর্বিত বোধ’ করেন প্রধানমন্ত্রী, পেশাদারিত্বেই কঠিন সব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ এসএসএফ

বুধবার (১৫ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফ’র ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নিজের স্বাগত বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও সুদূরপ্রসারি চিন্তা-চেতনার ফলেই বাংলাদেশে সব দিক থেকে উন্নয়ন সাধিত হওয়ার কথা গর্বভরেই উচ্চারণ করেন। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকেই মোটা দাগে উপস্থাপন করেন। 

বঙ্গবন্ধু নির্ভীকচিত্তে জীবন উৎসর্গ করেছেন
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই এসএসএফ’র মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.মজিবুর রহমান গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাঙালি জাতিসত্ত্বার অনন্ত প্রেরণার উৎস, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি সমগ্র জীবনের ত্যাগ তীতিক্ষা ও নির্ভীকচিত্তে নিজের জীবন উৎসর্গ করার মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে বাঙালি এবং বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা, বাহিনী প্রধানদের ধন্যবাদ ডিজি’র

আমি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি বঙ্গমাতা শেখ ফলিতাতুন্নেছা মুজিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, শিশু রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদকে। আমি স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদদের, যারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ। আমি একই সঙ্গে অত্যন্ত শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি ২ লক্ষ মা-বোনদের যাদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা।’

প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতায় প্রত্যাশিত পেশাগত দক্ষতা এসএসএফ’র
এসএসএফ’র মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.মজিবুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এসএসএফ’র প্রধান হিসেবে আপনার বিচক্ষণতা, সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত এবং দিকনির্দেশনায় এই বাহিনী প্রত্যাশিত পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেছে এবং সমৃদ্ধ হয়েছে। কোভিডকালীন সময়ে আপনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কারণে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সফলতার সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফর সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। অতিমারির প্রভাবে উন্নত দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ঈর্ষণীয় অগ্রগতি ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে। যা আপনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যেই ২০২১-২২ অর্থ বছরে মাথাপিছু আয়ে বিশ্বের অনেক দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

অত্যন্ত দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন, সার্বভৌম ও শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতিতে সমুন্নত একটি অপার সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে স্বীয় আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে আপনার নেতৃত্বের কারণে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, করোনা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেখানে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধনশীল জিডিপি অর্জন এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল অর্থনীতির মাধ্যমে তাঁর উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশ আজ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরি করেছে। আর কয়েকদিন পরেই আসছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কোটি বাঙালির দীর্ঘ প্রতিক্ষীত স্বপ্নের পদ্মা সেতু উ্েদ্বাধনের মাধ্যমে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রার এক নতুন ইতিহাস। সারা বিশ্বের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাখো বাঙালিরা নিজেদেরকে বিশ্ব পরিমন্ডলে আজ একজন গর্বিত বাঙালি হিসেবে আত্মপরিচয় দিয়ে সম্মানিতবোধ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় আপনার সম্মুখ থেকে নেতৃত্বদান বাঙালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’

এসএসএফ’র সক্ষমতা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থাসমূহ সুসংহত
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ, আভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ছদ্মবেশী দুষ্কৃতিকারী সর্বোপরি প্রযুক্তির সহজলভ্যতা সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন, মুজিববর্ষ তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণের কথা মাথায় রেখে এই বাহিনীর উন্নতি সাধনের জন্য বিভিন্ন সময়ে আপনি যেসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সক্ষমতা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থাসমূহকে আরও সুসংহত করেছে’ বলছিলেন এসএসএফ মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত রাখতে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সদয় অনুশাসন ও নির্দেশনা অনুযায়ী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক কমান্ড ভেহিক্যাল, চতুর্থ প্রজন্মের ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামার, বিভিন্ন ধরণের প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট ও বিভিন্ন ধরণের সার্ভিলেন্স ইকুইপমেন্ট। এছাড়াও সার্বিক গমনাগমন নিয়ন্ত্রণে রেসিডেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও রেস রিকোগনেশন সিস্টেম সংযোজনের ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদির গোপনীয়তা যথাযথভাবে রক্ষা করে দৈনন্দিন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসএসএফ এজেন্টদের অস্ত্র চালানো মান, প্রশিক্ষণকে আরও উন্নত করার লক্ষে সর্বাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ ও ফায়ারিং সিমুলেটর স্থাপন কার্যক্রম আপনার সদয় অনুমোদন ও সুদূরপ্রসারী নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এসব নতুন সংযোজিত সরঞ্জামাদি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে বর্তমান বিশ্বে একটি অত্যাধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী নিরাপত্তা বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছে। বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা মহামারীতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স কর্তৃক বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস রোধকল্পে স্টেটালাইজেশন ইকুইপমেন্ট আল্ট্রা ভাইলেট রোবট এই বাহিনীতে সংযোজিত হওয়ার পর থেকে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও জেনএক্সপার্ট মেশিন দিয়ে বঙ্গভবন, গণভবন ও বিভিন্ন কার্যালয়ে আগত যেকোন দেশি ও বিদেশি ব্যক্তির কোভিড টেস্ট স্বল্পতম সময়ে নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এসএসএফ
‘২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ৩৫ তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীতে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসএসএফ’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আধুনিকায়নের জন্য একটি মাল্টি পারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্স ও বুলেটপ্রুফ গাড়িসহ নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত গাড়িসমূহের পার্কিংয়ের জন্য একটি মাল্টিস্টোরেড ভেহিক্যাল পার্কিং ভবনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছিলাম। এই দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আপনার সদয় অনুমোদন ও সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আপনার এই মহানুভবতা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সকল সদস্য আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে’ যোগ করেন এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মজিবুর রহমান।’

কালের আলো/বিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email