বিষ কিনতে গিয়ে দোকানির সাথে প্রেম, বিয়ে না করায় ফের আত্মহত্যাচেষ্টা

প্রকাশিতঃ 12:06 pm | May 08, 2022

কালের আলো প্রতিবেদক:

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ৫ দিন ধরে অনশন করার পরও মেনে না নেওয়ায় বাবার বাড়িতে গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক সন্তানের জননী সীমা আক্তার।

শনিবার (৭ মে) মির্জাগঞ্জ উপজেলার মানসুরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সীমা আক্তার জানান, সাড়ে চার বছর আগে দক্ষিণ কলাগাছিয়া গ্রামের শহীদুল্লাহর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমাদের তিন বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। আমার স্বামী প্রায়ই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। এ কারণে এক বছর আগে বিষপান করে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেই। বিষ কিনতে সুবিদখালী বাজারের রায়হানের কীটনাশকের দোকানে যাই। রায়হান আমার মানসিক অবস্থা দেখে বুঝতে পারেন। পরে আমাকে বিষপানে বিরত করেন এবং বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ সময় আমার ফোন নম্বর রেখে দেয় সে। রায়হান প্রতিনিয়ত আমার খোঁজখবর নিত। এক পর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়ে ধীরে ধীরে তা প্রেমে রূপ নেয়।

তিনি বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রায়হান আমার সঙ্গে বহুবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় এবং কৌশলে আগের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করায়। পরে চাপ দিলে রায়হান বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে গত সোমবার (০২ মে) বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে অবস্থান নেই। আমাকে দেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় রায়হান।

সীমা আক্তার বলেন, ওই বাড়িতে অবস্থানকালে রায়হানের মা-বাবা আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এবং বিষপানে আত্মহত্যা করতে বলেন। শুক্রবার রাতে বাবা রায়হানের বাড়িতে আসে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তখন আমি বাবার সঙ্গে বাড়িতে চলে যাই। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় কোনো উপায় না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করি। বাড়ির লোকজন ঠিক পেয়ে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছে।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, বাবার বাড়িতে বসে বিষপান করেছে বলে জানতে পেরেছি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শুনেছি পরকীয়া প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএইচ/জেআর

Print Friendly, PDF & Email