ভিন্নভাবে সক্ষমদের জন্য স্থায়ী বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 5:51 pm | April 02, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্নসহ ভিন্নভাবে সক্ষম লোকদের জীবন সুরক্ষিত করার জন্য সরকার তাদের জন্য স্থায়ী বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

শনিবার (০২ এপ্রিল) ১৫ তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ৮টি বিভাগ আছে। আমরা এই ৮টি বিভাগে প্রথমে এটি (স্থায়ী বাসস্থান ও কর্মসংস্থান) প্রতিষ্ঠা করবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা প্রতিটি জেলায় তৈরি করবো।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘বলতে চাই’ এবং ‘স্মার্ট অটিজম বার্তা’ নামে দু’টি অ্যাপস উদ্বোধন করে বলেন, এগুলো অটিস্টিক ব্যক্তি, কথা বলতে সমস্যায় থাকা ব্যাক্তিদের কথা বলতে এবং অটিজম চিকিৎসায় সহায়ক হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি প্রোটেকশন ট্রাস্ট’র অধীনে ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং অটিজম আক্রান্তদের স্থায়ী বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা ট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের জন্য হোস্টেল বা ডরমিটরি তৈরি করতে পারি যেখানে তাদের দেখাশোনার জন্য লোক থাকবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্থায়ী বাসস্থান এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহন করতে বলেন। যাদের অভিভাবকরা সমর্থন দিতে অক্ষম এমন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিরাপদ জীবন যাপনের জন্য এই প্রকল্প স্থায়ী বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অটিস্টিক ও ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য সমাজে সুন্দর ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।

তিনি সকলকে বিশেষ করে ধনী ব্যক্তিদের ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের আর্থিক সহায়তা এবং চাকুরিসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদানের আহবান জানান। যাতে তাদের জীবন অর্থবহ হয় এবং সুপ্ত মেধা বিকশিত হতে পারে।

সরকারপ্রধান বলেন, দেশের সকল ধনী নাগরিকদের দায়িত্ব ভিন্নভাবে সক্ষম লোকদের যতœ নেয়া। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের অত্মার আত্মীয়।’

তিনি বলেন, অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, কারণ তাদের অনেক প্রতিভা রয়েছে। তাদের প্রতি আর অবহেলা না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে তাদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।

বিশেষ অলিম্পিকে স্বর্ণ এবং রৌপ্য বিজয়ী এবং সম্প্রতি চার দেশের বিশেষ ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা অর্জনে বাংলাদেশী ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ খেলোয়াড়রাও এটা পারেন না।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ভিন্নভাবে সক্ষম জনগনের উন্নতিতে কাজ করতে শুরু করে।

অটিস্টিকদের জন্যে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত, এমনকি তার কাছেও।

কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বে অটিজম বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অটিজম বিষয়ে গুরুত্ব এবং সচেতনতা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বেড়েছে।

তিনি পিতামাতা ও অভিভাবকদের প্রতি তাদের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা বিষয়ে লজ্জাবোধ এড়িয়ে সমাজের মূলধারায় অটিস্টিকদের সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার জন্যে অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে এ ধরনের সন্তানের সাথে আরো বেশি সময় ব্যয় করারও আহ্বান জানান।

সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদেরকে আমাদের সমাজের বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তাদেরও অর্থপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। আমরা যারা পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যের অধিকারী আমাদের উচিত তাদের অধিকারের পূর্ণতা দেয়া।

এবারে ওয়ার্ল্ড অটিজম অ্যাওয়ারনেস ডে-২০২২ এর প্রতিপাদ্য ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মক্ষেত্র’। অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের জীবন উন্নত করতে সকলের দ্বারা ব্যাপক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২ এপ্রিলকে ওয়ার্ল্ড অটিজম অ্যাওয়ারনেস ডে ঘোষণা করে।

সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু এবং একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজা আক্তার বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্যে চারটি ক্যাটাগরিতে অটিজমে আক্রান্ত তিন শিশু, তিনটি সংস্থা, দু’জন ব্যক্তি এবং একজন মায়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সমাজে অবদান রাখার জন্যে অটিজমে আক্রান্ত তিন শিশু মাসুদুল ইমান, মুনতাসির ইনাম এবং ইসাবা হাবিব সুশমির প্রত্যেকের হাতে একটি ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।

এছাড়া, অটিজমে আক্রান্তদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবদান রাখায় তিন সংস্থা এনআই খান ফাউন্ডেশান, আরটিভি এবং ফাউন্ডেশান ফর উইমেন এন্ড চিলড্রেন এবং দু’জন ব্যক্তি সুবর্ণ চাকমা, প্রফেসর খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুনকে সম্মানজনক মানপত্র প্রদান করা হয়।

কালের আলো/পিএম/এনএল

Print Friendly, PDF & Email