অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

আরও বেড়েছে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

আরও বেড়েছে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ

ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরও বেড়েছে। প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত খেলাপি, অবলোপনকৃত এবং পুনঃতফসিল করা ঋণকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

জানা যায়, প্রতিবছর দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বাড়ছে। এর আগে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। মূলত এসব ঋণ অনাদায়ী। তবে নানা উপায়ে নিয়মিত দেখানো হতো। কিছু ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে ব্যালান্স শিট বা আর্থিক হিসাব বিবরণী থেকে আলাদা রাখা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুব কম। যে কারণে এসব ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক চলে গেছে।

‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০২৫ সাল শেষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে; যা আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকারের চেয়েও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে করপোরেট ঋণই ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া মোট ঋণের ৩১ দশমিক ১৬ শতাংশই বৃহৎ ঋণ। অন্যদিকে, উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ থাকায় আরও ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণকে খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না।

ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বেড়ে যাওয়ার ফলে এক বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ অনুপাত (সিআরএআর) ৩ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মানে হল, ব্যাংক খাতে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কমেছে। বিপুল এই খেলাপি ও ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক খাতে প্রয়োজনীয় ৪ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতির (প্রভিশন) বিপরীতে রাখা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি থেকে গেছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতির ওপর কোনো চাপ নেই। তবে মূলধন ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক হওয়ার মূলে ইসলামী ব্যাংকিং খাত। এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত মারাত্মক কমে নেগেটিভ ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। অবশ্য একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংককে হিসাবের বাইরে রাখলে এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে। ইসলামিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও, নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও এবং ইনভেস্টমেন্ট-ডিপোজিট রেশিও বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

Link copied!