ধর্মবিশ্বাস আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা পান, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক ও উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, উৎসব মানুষকে সব ধরনের সীমারেখা অতিক্রম করতে শেখায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে উন্মুক্ত করে। সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে উৎসবের সর্বজনীন আহ্বানে অন্য ধর্মের মানুষও আনন্দ ও সংহতি অনুভব করেন। তিনি বলেন, আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে বন্ধন গড়ে উঠেছে, তা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দানবীয় অসুররূপী সমাজে অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী। এই আনন্দ-উৎসবের বার্তা কোনো একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। রিজভী বলেন, মা দুর্গার আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী। তিনি দুর্গতি বিনাশ করে শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই বার্তা ধারণ করে সমাজের অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে চালের বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে প্রতিটি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতদের সরকার থেকে মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে বিএনপি এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং এখন তা বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এ দেশের মানুষ একসঙ্গে জারি-সারি গান শোনে, বিভিন্ন পার্বণে অংশ নেয় এবং কীর্তনসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করে। গম্ভীরা ও অন্যান্য লোকজ সাংস্কৃতিক ধারাতেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শত শত বছর ধরে একসঙ্গে অংশ নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ধর্ম ও বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগের সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছেন।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
