জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

রুহুল কবির রিজভী

একের পর এক ইউনিট বন্ধ হচ্ছে, কেন—প্রশ্ন রিজভীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

একের পর এক ইউনিট বন্ধ হচ্ছে, কেন—প্রশ্ন রিজভীর

দেশে একের পর এক সংকট ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এসব ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা, নাশকতা নাকি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য মাত্র ছয় মাসের সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় আমদানিতেও প্রভাব পড়ছে।
মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সচল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ায় সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
রিজভী বলেন, ‘একের পর এক কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এটা কেন হচ্ছে? মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটা কি কোনো ঘটনা, কোনো রহস্য, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না—সেটিও ভাবতে হবে।’
সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় তাদের পাওনাও দেওয়া হচ্ছে। এরপরও কেন ধারাবাহিকভাবে সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে মানুষের প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও ৬১ লাখ থেকে ৬২ লাখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে আড়াল বা বাধাগ্রস্ত করতে কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এত মানুষ কীভাবে জড়ো হলো, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসন তা জানে কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে রিজভী বলেন, তাদের রক্তের ওপর দিয়ে আবার কোনোভাবেই সহিংস রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া যাবে না। ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে ভিন্নমত ও সমালোচনার সুযোগ থাকা উচিত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সমালোচনা হতে পারে, তবে তা গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন। অপপ্রচার ও কলঙ্ক লেপনের রাজনীতি থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাবা-মায়ের ভরণপোষণ ও অধিকারসংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এতে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হয়নি। বরং বৃদ্ধ বাবা-মা যেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত শান্তিতে থাকতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এ আইনের লক্ষ্য। তিনি আইনটিকে ‘যুগান্তকারী’ বলে মন্তব্য করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!