Kaler Alo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি ট্রাম্পের দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি ট্রাম্পের দল

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি, নাকি বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল আইনপ্রণেতা নির্বাচনের লড়াই নয়, একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে আগাম ভোট চলছে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো ভোটার উপস্থিতি হলে এবার ১০ কোটির বেশি মানুষ ভোট দিতে পারেন। নির্বাচন ঘিরে দুই দলের রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। ভোটারদের সমর্থন পেতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে উভয় দল।

১২ অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাচনী বিজ্ঞাপনেই ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ৩৮০ কোটি ডলার। নির্বাচনী অর্থায়নের নথি অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের সমর্থনে একাই প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। বিপুল অর্থের প্রচার এবং বড়সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে, ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের বাকি সময়ে কতটা সহজে আইন প্রণয়ন ও নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তাঁর প্রশাসনকে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ পাবেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন হয়
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ দুই বছর পর নভেম্বরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হয়। একেই বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না। ভোটাররা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য নির্বাচন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভার সদস্য ও স্থানীয় পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই কক্ষের সব ৪৩৫টি আসনেই ভোট হয়। অন্যদিকে সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পরপর এই কক্ষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। ফলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ নির্বাচনকে শুধু আইনপ্রণেতা বেছে নেওয়ার ভোট হিসেবে দেখা হয় না। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি নাগরিকেরা কতটা সন্তুষ্ট, তারও একটি প্রতিফলন ঘটে এতে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারের নীতি এবং গত দুই বছরে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ভোট হবে। সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে নির্বাচন হবে ৩৫টিতে। এর মধ্যে ৩৩টি আসনে নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি আসনে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফ্লোরিডা ও ওহাইওর এই দুটি আসন আগে যথাক্রমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দখলে ছিল। তাঁদের পদত্যাগের পর আসন দুটি শূন্য হয়।

এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হবে। ১৯৪৬ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬ দশমিক ৫টি আসন হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টড বেল্ট। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয় না। বরং তাঁর দলের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, সেটিই নির্ধারিত হয়। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে প্রেসিডেন্টের পক্ষে নিজের নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ হয়। বিপরীতে বিরোধী দল এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারিতে বাধা তৈরি করতে পারে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের ক্ষমতা কতটা
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এর উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। আইন তৈরি ও পাস করা, কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করা কংগ্রেসের প্রধান দায়িত্ব। প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রত্যেকটি থেকে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। জনসংখ্যা বেশি হলে কোনো অঙ্গরাজ্যের আসনসংখ্যাও বেশি হয়। প্রতিটি আসন থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন এবং তাঁদের মেয়াদ দুই বছর।

অন্যদিকে সিনেটে মোট আসন ১০০টি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। অঙ্গরাজ্যের আয়তন বা জনসংখ্যা যতই হোক, সিনেটে সবার প্রতিনিধিত্ব সমান। একজন সিনেটরের মেয়াদ ছয় বছর। তবে সব সদস্যের মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হয় না; প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। কোনো বিল আইনে পরিণত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেরই অনুমোদন প্রয়োজন। একটি কক্ষে পাস হওয়ার পর বিলটি অন্য কক্ষে যায়। দুই কক্ষে পাস হলে তা প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

তবে দুই কক্ষের কিছু পৃথক ক্ষমতাও রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হয়। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা রয়েছে এই কক্ষের। অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত এবং কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদনের দায়িত্ব সিনেটের। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগেও সিনেটের সম্মতি প্রয়োজন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে দুই দলের হিসাব
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে কোনো দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে ২১৮টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে ২১৪টি। একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি আসন শূন্য। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টড বেল্টের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৩৫টি আসনের ফল শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সিনেটের সমীকরণ কিছুটা আলাদা। ১০০ সদস্যের এই কক্ষে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সদস্য ৫৩ জন। ডেমোক্র্যাটদের সদস্য ৪৫ জন। এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন, যাঁরা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যের সংখ্যা ৪৭।

সিনেটে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১টি আসন প্রয়োজন। তবে ভোট সমান হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট অতিরিক্ত একটি ভোট দিতে পারেন। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকান হওয়ায় ৫০-৫০ সমতা হলেও তাঁর ভোটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবেন। এ কারণে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। এবার সিনেটের যে ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে, তার মধ্যে ২২টি বর্তমানে রিপাবলিকান এবং ১৩টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে। ফলে নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি আসনও জিততে হবে ডেমোক্র্যাটদের।

সিনেটের যেসব আসনে নজর দুই দলের
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্স। মিশিগানে সিনেটের একটি শূন্য আসনে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্স। নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি শূন্য আসনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাসের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান জন সুনুনু।

রিপাবলিকানদের দখলে থাকা মেইন ও নর্থ ক্যারোলাইনাও ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন। নর্থ ক্যারোলাইনার শূন্য আসনে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট রয় কুপার ও রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলি। এ ছাড়া ওহাইও, আলাস্কা ও আইওয়ার নির্বাচনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ খুঁজতে থাকায় টেক্সাস ও কানসাসের আসনও আলোচনায় এসেছে। মেইন, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা, আইওয়া ও জর্জিয়াসহ অন্তত ১০টি সিনেট আসন চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভোটারদের কাছে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম, বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনার খরচ এবং চিকিৎসাসেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া গর্ভপাতের অধিকার, অভিবাসননীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তথ্য সংরক্ষণের জন্য বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণের ফলে মানুষের কর্মসংস্থান, বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যয় নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ভোটারদের পছন্দের একটি চিত্র উঠে এসেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৪৪ শতাংশ ভোটার তাঁদের এলাকার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করেন ৫ শতাংশ। আর ১৫ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। নারী ও পুরুষ ভোটারদের পছন্দেও পার্থক্য দেখা গেছে। পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের প্রার্থীর সমর্থনই ৪২ শতাংশ। তবে নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বেশি। তাঁদের ৪৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩১ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করেন।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে কী হবে
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ বাড়বে। প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এই কক্ষের বিভিন্ন কমিটি তদন্ত করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও তাদের থাকবে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনার ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে।

সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এই কক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দপ্তর পরিচালনার জন্য প্রতিবছর ১২টি বরাদ্দ বিল অনুমোদন করতে হয়। এসব বিল নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের মধ্যে মতবিরোধ হলে সরকারি অর্থছাড় আটকে যেতে পারে। অর্থের অভাবে সরকারি দপ্তরের কিছু কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যাকে বলা হয় ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’। তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের ইচ্ছেমতো আইন পাস করতে পারবেন না। কোনো বিল আইনে পরিণত হতে হলে সিনেটের অনুমোদনও প্রয়োজন। তাই সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে দুই কক্ষের মতবিরোধে নতুন আইন পাস করা কঠিন হতে পারে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত, কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের জন্য যাঁদের মনোনীত করেন, তাঁদের নিয়োগ অনুমোদনের দায়িত্ব সিনেটের। ফলে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে এসব নিয়োগ আটকে দিতে বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। এর প্রভাব ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারকেরা সাধারণত আজীবন দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ট্রাম্পের সময়ে নিয়োগ পাওয়া বিচারকেরা তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিতে পারেন।

প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসনের অভিযোগ আনলে সিনেটে তার বিচার হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ১০০ সদস্যের সিনেটে এ জন্য অন্তত ৬৭ জনের সমর্থন লাগবে। তাই শুধু সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবেন না। এমনকি কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো বিল তাঁর পছন্দ না হলে তিনি তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

স্পিকার পদে আসতে পারেন হাকিম জেফরিস
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে নিউইয়র্কের প্রতিনিধি হাকিম জেফরিস স্পিকার হতে পারেন। বর্তমানে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা। স্পিকার নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি।

স্পিকার হিসেবে জেফরিস প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন। ট্রাম্পের সময়ে ‘নজিরবিহীন মাত্রায় দুর্নীতি’ হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় গেলে এসব বিষয়ে তদন্তের কথাও বলেছেন জেফরিস।

এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রাধিকার নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে তাঁর। জেফরিসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাড়িভাড়া, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার দিকে গুরুত্ব দেবে দলটি। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে স্পিকারের পদ তাঁদের হাতেই থাকবে। বর্তমান স্পিকার মাইক জনসন আবারও এ পদে থাকতে পারেন। তবে দলের ভেতর থেকে কেউ তাঁকে চ্যালেঞ্জ করলে অন্য কোনো রিপাবলিকানও স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন।

নির্বাচনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা
নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ভোটে হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব কর্তৃপক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করে।

২০২০ সালের নির্বাচনের পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়। তবে তাঁর এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তা ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ তুলনামূলক সহজ হবে। আর ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে প্রশাসনের ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে ফল যা-ই হোক, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদে এর কোনো পরিবর্তন হবে না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!