কুমিল্লা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাট নির্মাণ, চার বছরেও কাজে আসেনি

কুমিল্লা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাট নির্মাণ, চার বছরেও কাজে আসেনি

কুমিল্লার হোমনায় সরকারি অর্থে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা ঘাট গত তিন থেকে চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। মূল সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত সংযোগ পথ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি গোসল ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে নদীতে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঘাটটি নির্মাণ করা হলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে ,উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের কানাই সাহা ঘাট এলাকায় তিতাস নদীর তীরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলেও মূল সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ ফুট জায়গায় কোনো সংযোগ পথ তৈরি করা হয়নি। ফলে ঘাটে যেতে হলে স্থানীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় সংযোগ পথ না থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন ও দৈনন্দিন ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘রামকৃষ্ণপুর রাম কানাই রায়ের বাড়ি দুর্গাপূজা মণ্ডপ’-এর প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার্থে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীতে যাতায়াত সহজ করাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করায় সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। ঘাটটি নির্মাণে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও এর সঙ্গে সড়কের সংযোগ নিশ্চিত করা হয়নি কেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণের পর সেটি ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংযোগ পথ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
ঘাটটি ব্যবহার উপযোগী না হওয়ার কারণ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পূজামণ্ডপ কমিটির এক প্রতিনিধির বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে সড়ক থেকে কিছুটা দূরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঝের ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে মাটি ভরাট করে সংযোগ পথ তৈরি করবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু পরে তাঁরা আর সেই কাজ করেননি। অন্যদিকে, পূজামণ্ডপ কমিটির এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকৌশলীদের ভুল নকশা এবং ঘাটের খাড়া সিঁড়ির কারণে এটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত সংযোগ পথ তৈরির জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাটি ভরাটের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। তবে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজটি আর করা সম্ভব হয়নি।

বাস্তবায়ন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘাটটি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দরপত্র, প্যাকেজ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে ওই এলাকার শুভ নামের এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি বাস্তবায়নের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকল্পের নথি ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় কাজটির পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা কেন দীর্ঘদিন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তা নির্ধারণে প্রকল্পের নকশা, ব্যয় ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য
এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, তিনি মাত্র দুই দিন আগে যোগদান করেছেন। বিস্তারিত তথ্য না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। ঘাটটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সংযোগ পথ নির্মাণ, ঘাটের নকশা ও সিঁড়ির ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!