সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক সোনাইছড়ি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানে পিচ ও ইট উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমে কাদাপানি। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রবীণ ও কর্মজীবী মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও কাদার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুবকেরা নিজ উদ্যোগে ইটের সুরকি ও খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির কারণে তা স্থায়ী হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে পানি জমে রাস্তা ও পাশের ড্রেন একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ বাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা।

শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তি বেশি

সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা কাদাপানিতে পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট করছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লতিফপুর আলহাজ আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট হতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় রিকশা বা সিএনজি সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও চালকেরা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাড়তি ভাড়ায় নাকাল যাত্রীরা

সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলেও সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা এই পথে চলাচলে অনীহা দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ি চালালে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ফলে মেরামতের পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সিএনজিচালক মো. করিম বলেন, সোনাইছড়ি সড়কে গাড়ি চালালে প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। এ কারণে চালকেরা এই পথে ট্রিপ নিতে চান না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে তাঁদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়বে।

সড়কের দুরবস্থায় কর্মজীবী মানুষেরও ভোগান্তি বেড়েছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রিদোয়ান জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শওকত মামুন বলেন, জরুরি কাজে বের হলেও সড়কের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও দুরূহ হয়ে যায়।

সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে রাস্তা ও ড্রেন একাকার হয়ে যায়। সুস্থ-সবল মানুষও হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। প্রবীণদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। পণ্য পরিবহন ও কর্মস্থলে যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের দাবি, সোনাইছড়ি সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; এটি এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!