যশোরের বাজারে বিদেশি ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ছোট আকারের কাশ্মীরি আপেল ছাড়া অধিকাংশ বিদেশি ফল কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকার বেশি। আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। আর বেদানার দাম উঠেছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) যশোর শহরের পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বণিক বার্তা।
বাজারে চায়না ও গালা আপেল প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, আকারভেদে কমলালেবু ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, মাল্টা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং আঙুর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেদানার দাম প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। তুলনামূলক ছোট কাশ্মীরি আপেল পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
খেজুরের বাজারেও রয়েছে দামের বড় ব্যবধান। সবচেয়ে কম দামের বস্তা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। মরিয়ম খেজুরের দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং দাবাস খেজুর ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।
ফলের দাম বাড়ার পেছনে উচ্চ আমদানি শুল্ক, ডলারের মূল্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও কাস্টমসসংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কেউ কেউ আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটকেও বাজার অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যশোর ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটন বলেন, ফল পুষ্টির অন্যতম উৎস হলেও আমদানির ক্ষেত্রে এটিকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিদেশি ফলের ওপর সর্বোচ্চ ১২১ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং তার প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে।
অতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ফল কেনাও কমে যাচ্ছে। যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার গৃহবধূ নাসিমা বেগম বলেন, হাসপাতালে রোগী দেখতে যাওয়ার সময় ৪৫০ টাকা কেজি দরে আপেল ও মাল্টা কিনেছেন। কিন্তু এত দামে নিয়মিত পরিবারের জন্য ফল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে কলা, ড্রাগন ফল ও পেয়ারা কিনতে হচ্ছে।
এদিকে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় তদারকি চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, মণিহার এলাকার পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন ফলের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। মূল্যতালিকা না থাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানাও করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীদের ক্রয়মূল্যের রসিদ সংরক্ষণ এবং বিক্রয়মূল্যের তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রেতাদের জিম্মি করার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
