মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি সেতু। তবে দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি নির্মাণের পরও চলাচলের উপযোগী হয়নি। এতে কামারচাক ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর কামারচাক ইউনিয়নের কামারচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই খেয়াঘাট সড়কের আওতায় লাঘাটা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)।
২০২০ সালের ৬ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালের শেষ দিকে সেতুটির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও আইনি জটিলতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে মাটি না পাওয়ায় সড়ক নির্মাণের কাজও আটকে যায়।
সেতুর দক্ষিণ পাশে থাকা ছোট গ্রাম্য মেঠোপথটিও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ফলে দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি বেশি।
এলাকার কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে প্রায় দ্বিগুণ খরচ হওয়ায় কমে যাচ্ছে তাঁদের লাভ। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় লাঘাটা নদী পার হতে হয় স্থানীয়দের।
গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আবেদন করেছেন তাঁরা। ২০২০ সালে কাজ শুরু হলে এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও তাঁদের দুর্ভোগ কমেনি। বর্ষাকালে এখনো নৌকায় নদী পার হতে হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ নিয়েও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থার মধ্যেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি
