শরতের বিদায়লগ্নে কুমিল্লার প্রকৃতিতে দেখা দিয়েছে ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা, ঘাসে শিশির আর হালকা হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তা। তবে সকাল গড়িয়ে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রোদের তেজ ও গরম।
গত এক সপ্তাহ ধরে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মেঘনা উপজেলার মানিকারচর এলাকায় সকাল সাতটার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকছে যে কয়েক হাত দূরের পথও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। শিশিরভেজা ধানের শিষ ও গাছের পাতায় সূর্যের প্রথম আলো পড়ে তৈরি করছে মনোরম দৃশ্য।
তবে ভোরের এই কুয়াশা সড়কে চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দূরপাল্লার বাস ও স্থানীয় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গেলে স্বাভাবিক হয়ে আসছে জনজীবন।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার পরিবর্তনের কারণে এ সময়ে আবহাওয়ায় বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকার পর হঠাৎ পরিষ্কার হয়ে গেলে শেষরাত ও ভোরে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। এতে কুয়াশা সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
শরতের নরম রোদ, সাদা মেঘ আর ভোরের কুয়াশা—সব মিলিয়ে কুমিল্লার প্রকৃতিতে এখন অন্যরকম স্নিগ্ধতা। ভোরে কুয়াশার আবরণ আর দুপুরে গরমের দাপটের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে ঋতু বদলের কথা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
