চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, ২৫ কেজি চালে ২২ দিন চলবে কীভাবে?

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, ২৫ কেজি চালে ২২ দিন চলবে কীভাবে?

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জেলেপল্লীগুলোতে নেমে এসেছে হতাশা। ভরা মৌসুমে আশানুরূপ মাছ না পেলেও সম্প্রতি জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছিল। ঠিক সেই সময় নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। মিরসরাইয়ের নদ-নদী ও সংশ্লিষ্ট অভয়াশ্রমেও বুধবার মধ্যরাত থেকে মাছ ধরার ওপর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সাময়িক কষ্ট লাঘবে উপজেলার ১ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। মাছের আড়ত, বাজার ও পরিবহনেও নজরদারি চালানো হবে।

তবে জেলেদের অভিযোগ, ২২ দিন সংসার চালানোর জন্য ২৫ কেজি চাল যথেষ্ট নয়। মাছ ধরতে না পারায় আয় বন্ধ থাকলেও পরিবারের খাবার, জাল মেরামত, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হবে। ফলে বাধ্য হয়ে ধারদেনা ও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে তাঁদের। এ অবস্থায় পরিবারপ্রতি অন্তত ৫০ কেজি চাল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জেলে সুধাংশু দাশ বলেন, ‘সাগরে জাল ফেলে যে পরিমাণ মাছ পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি জাল কাটা পড়েছে। এতদিনে কিছু মাছ জালে উঠতে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। জাল বোনা, পরিবারের খরচ ও ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে আবারও ধারদেনা ও ঋণ করতে হবে। সরকার আমাদের দিকে আরেকটু সুদৃষ্টি দিলে কষ্ট কিছুটা কমত।’

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁদের পরিবারগুলো যাতে খাদ্যসংকটে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি মাছের আড়ত, বাজার ও পরিবহনেও নজরদারি থাকবে, যাতে কেউ মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি করতে না পারে।

একদিকে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা—এই দুইয়ের চাপে দিন কাটছে মিরসরাইয়ের জেলেদের। তাঁদের দাবি, ইলিশের প্রজনন রক্ষার উদ্যোগের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!