শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা তৈরির শিল্প এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। কঠোর পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম হওয়ায় নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণ কারিগরের ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে টিকে আছে গ্রামবাংলার এই পুরোনো কারুশিল্প।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়, বর্তমানে কর্মরত মাত্র পাঁচজন কারিগরের সবাই পঞ্চাশোর্ধ্ব। বয়সের ভারে তাদের কর্মক্ষমতা কমে আসার পাশাপাশি নতুন কারিগর তৈরি না হওয়ায় ভবিষ্যতে এই শিল্পের অস্তিত্ব নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঠের চাকা শুধু কোনো যানবাহনের একটি অংশ নয়; এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, কারিগরি দক্ষতা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। একসময় কৃষিকাজ ও গ্রামীণ পরিবহনে কাঠের তৈরি বিভিন্ন যানবাহনের চাকার ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও আধুনিক যানবাহনের প্রসারে এর চাহিদা কমে গেছে। ফলে এ পেশায় জড়িত কারিগরদের আয়ও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
কারিগরদের আয় কম হওয়ায় তাদের সন্তানরাও এ পেশায় আসতে চাইছেন না। নতুন প্রজন্মের কেউ এই কাজ শিখতে আগ্রহী না হওয়ায় প্রবীণ পাঁচ কারিগরের অবসরের সঙ্গে সঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, কাঠের চাকা তৈরির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এ শিল্পের সঠিক নথিভুক্তকরণ প্রয়োজন। পাশাপাশি চাকা তৈরির প্রধান উপকরণ বাবলা গাছের ব্যাপক চারা রোপণ, সরকারি-বেসরকারি আর্থিক সহায়তা ও কারিগরদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা দরকার।
তাদের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে এই শিল্পের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন পুরোনো কারিগরি জ্ঞান সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে নতুন কারিগর তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রবীণ কারিগরদের টিকিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
