বরগুনার আমতলী পৌর শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেড় যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাঁধটির বিভিন্ন অংশ প্রয়োজনীয়ভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য জোয়ারের পানি বাড়লেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডরের পর একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে আমতলী ফেরিঘাট থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাশ্মশান ঘাট পর্যন্ত এলাকায় বাঁধের অবস্থা বেশি নাজুক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের বিভিন্ন অংশে ব্লক সরে গেছে। কোথাও কোথাও ঢাল ধসে নদীর দিকে ভাঙন তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর জোয়ার ও দুর্যোগের সময় নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাঁধ। এতে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিডরের পর রেশমি, আইলা, মহাসেন, কোমেন, রোয়ানু, মোরা, ফণী, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, জাওয়াদ, সিত্রাং, মোখা, হামুন ও রেমালসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে। এসব দুর্যোগে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বাঁধের অবস্থা দিন দিন নাজুক হচ্ছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। বাঁধের ব্লকগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে তাঁরা অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারবেন। তা না হলে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই ঘরের আঙিনায় পানি ঢুকে পড়ে।
স্থানীয় করাতকল ব্যবসায়ী আমির হোসেন তালুকদার বলেন, তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিও বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে। আগে করাতকলের সামনে ১০ থেকে ১৫ ফুট জায়গা ছিল, এরপর ছিল ব্লকের ঢাল। কিন্তু জোয়ার ও বন্যার পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই জায়গাটুকুও এখন নেই। যেকোনো সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কথা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, বিষয়টি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁরা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
