দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা। স্বাভাবিকভাবে অনেক কাজ করাই কঠিন। তবু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানেননি যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের জোহরা খাতুন। প্রায় ২৫ বছর ধরে স্বামী রশিদের সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন তিনি।
জোহরা ও রশিদের দাম্পত্যজীবন প্রায় ৪০ বছরের। দীর্ঘ এই সময়ে অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতা এলেও দুজন একে অপরের পাশে থেকেছেন। জোহরার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করলেও সংসারের দায়িত্ব থেকে তাঁকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।
প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ঘুম থেকে ওঠেন জোহরা। এরপর চলে যান স্বামীর চায়ের দোকানে। সেখানে চা তৈরি, ক্রেতাদের চা দেওয়া এবং দোকানের বিভিন্ন কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করেন। দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে রান্নাসহ ঘরের কাজ শেষ করেন। স্বামীর জন্য খাবার তৈরি করে আবার দোকানে ফিরে যান। এরপর দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে দোকানে কাজ করেন।
দুই হাতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় প্রতিদিনের কাজে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তারপরও জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
জোহরা খাতুন বলেন, ‘আমরা কারও কাছে হাত পেতে খাই না। আমার দুই হাত প্রতিবন্ধী। তারপরও আমি আমার স্বামীর সঙ্গে কষ্ট করে সংসার চালাই। আমার স্বামী আমাকে দেখে কখনো ঘৃণা করে না। আমরা দুজন দুজনকে নিয়ে বেঁচে আছি।’
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। স্বামী রশিদও দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। সংসারের প্রয়োজনেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন তিনি। দুজনের আয়ে চলে তাঁদের সংসার।
স্থানীয় এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি বলেন, জোহরা ও রশিদের মতো অসচ্ছল মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সহযোগিতা পেলে তাঁদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের মধ্যেই কাটে জোহরার দিন। ঘরের কাজ সামলে আবার দোকানে ছুটে যেতে হয়। এভাবেই প্রায় ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকানে কাজ করছেন তিনি।
জোহরা বলেন, তিনি কারও করুণা চান না। স্বামীর সঙ্গে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে সংসার চালিয়ে যেতে চান।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
