ঝালকাঠি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

১৭ মিলের ১০টিই বন্ধ, অস্তিত্ব সংকটে ঝালকাঠির লবণ শিল্প

ঝালকাঠি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

১৭ মিলের ১০টিই বন্ধ, অস্তিত্ব সংকটে ঝালকাঠির লবণ শিল্প

একসময় লবণ শিল্পের কারণে দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিল ঝালকাঠি। নদীপথে সহজ যোগাযোগের সুবিধায় ব্রিটিশ আমলে বাসন্ডা নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছিল ১৭টি লবণ কারখানা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে একসময় ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ নামে পরিচিতি পাওয়া ঝালকাঠির সেই ঐতিহ্য এখন হারাতে বসেছে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অটোমিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় ঝালকাঠির অনেক লবণ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ১৭টি কারখানার মধ্যে মিতালী সল্ট, নুর সল্ট ও সুরভি সল্টসহ ১০টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে শরীফ সল্ট, নিউ ঝালকাঠি সল্টসহ সাতটি মিল চালু রয়েছে।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমানে জেলার লবণ মিলগুলোতে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লবণ উৎপাদন হচ্ছে। বড় কোম্পানির প্যাকেটজাত লবণ যেখানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, সেখানে ঝালকাঠির লবণ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। তুলনামূলক কম দামের কারণে এ লবণের চাহিদা রয়েছে আশপাশের জেলাগুলোতে। রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়া থেকেও পাইকাররা এসে এখান থেকে লবণ কিনে নিয়ে যান।

ঝালকাঠির বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, লবণ শিল্পের মান ধরে রাখতে বিসিক সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছে। শিল্পটি টিকিয়ে রাখা ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রেও বিসিকের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

জেলা লবণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল শরীফ বলেন, আধুনিক কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কারখানাগুলোতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নিয়েও মালিক সমিতি কাজ করছে।

তিনি বলেন, পাইপলাইনে গ্যাস, পর্যাপ্ত মূলধন ও সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে দেশীয় লবণ শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ঝালকাঠির হারানো ঐতিহ্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ঝালকাঠিতে এখনও সনাতনী পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করা হয়। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল এনে বিভিন্ন ধাপে তা শোধন করা হয়। পরে রাসিন মেশিনে শুকিয়ে ঝরঝরে করার পর প্রয়োজন অনুযায়ী আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আশির দশকে দেশে লবণ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকে ঝালকাঠির শিল্পটি। ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থাকলেও আধুনিক অটোমিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে স্থানীয় কারখানাগুলো। এখন সরকারি সহায়তা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!