সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে চৌহালী জনতা উচ্চবিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয় ভবন থেকে যমুনার দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ ফুট। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চার গ্রামের ২৯৫ শিক্ষার্থীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামে গত সোমবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এরপর থেকে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনে এ এলাকার অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা ও সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হলে চার গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ আশপাশে তাদের জন্য বিকল্প কোনো বিদ্যালয় নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও মোহাম্মদ আলী দ্রুত বিদ্যালয়টি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, দূরের বিদ্যালয়ে সন্তানদের পড়ানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা অনেক পরিবারের নেই। স্কুলটি হারিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চৌহালী জনতা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, হঠাৎ করেই বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভবন থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ১৫ ফুট। কিছুদিন আগেই পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। একই পরিণতি যেন এ বিদ্যালয়ের না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চারটি নদীভাঙনকবলিত গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ২৯৫ শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত জিওটেক্সের বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়টি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্কুলটি রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ওই এলাকায় জিওটেক্সের বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, চার গ্রামের ২৯৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
