পাহাড়, ঝরনা, বন, সাগর ও জলাশয়ের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই উপজেলায় একাধিক প্রাকৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র থাকায় দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে মিরসরাই।
মিরসরাইয়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে মহামায়া ইকো পার্ক অন্যতম। পাহাড়, লেক, ঝরনা ও সবুজ বনভূমির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ পর্যটনকেন্দ্রে ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। প্রকৃতির পাশাপাশি দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে খৈয়াছড়া ঝরনা। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ঝরনায় যাওয়ার রোমাঞ্চ এবং কয়েক ধাপে নেমে আসা স্বচ্ছ পানির দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
এ ছাড়া রূপসী ও নাপিত্তাছড়া ঝরনাও মিরসরাইয়ের পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে। এসব স্থানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে গাইড, পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা। এতে স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
মিরসরাইয়ের পর্যটনের আরেকটি সম্ভাবনাময় দিক উপকূলীয় অঞ্চল। মুহুরী প্রজেক্টের বিস্তীর্ণ জলরাশি, নদী ও সবুজ প্রকৃতির পাশাপাশি কয়েকটি সি বিচ পয়েন্টও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ কিংবা পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে এসব স্থানে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের পাশাপাশি আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রও মিরসরাইয়ের পর্যটনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রজেক্ট সোনাপাহাড় এবং আরশিনগর ফিউচার পার্ক পরিবার, শিশু ও তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ফলে মিরসরাইয়ের পর্যটন এখন শুধু পাহাড় ও ঝরনাকেন্দ্রিক না থেকে প্রকৃতি, সমুদ্র, জলাশয় ও বিনোদনকেন্দ্র মিলিয়ে বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, একই ভ্রমণে পাহাড়ি ঝরনা, মহামায়া, সমুদ্রসৈকত ও বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ থাকায় মিরসরাইয়ে দুই থেকে তিন দিনের ট্যুর পরিকল্পনা করা সম্ভব। তবে এজন্য এসব পর্যটনকেন্দ্রকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি।
সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক লেখক মঈনুল হোসেন টিপু বলেন, মিরসরাই পর্যটনের জন্য অপার সম্ভাবনাময়। পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে প্রশাসনিকভাবে মিরসরাইয়ের ব্র্যান্ডিং, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইকো ট্যুরিজম বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি ভালো আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে পর্যটকরা দুই থেকে চার দিনের ট্যুর পরিকল্পনা করতে পারবেন।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, মিরসরাইয়ের পর্যটন খাত প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে। স্থানীয় ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করা হচ্ছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেকে নতুন ব্যবসা ও কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ঝরনার ইজারাদার ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের পর্যটকবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি আবাসন খাতে ব্যক্তি উদ্যোগে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা গেলে মিরসরাই ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
