নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মি, ২ লাখ টাকার চেকসহ গ্রেপ্তার ৪

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

হানিট্র্যাপে শিক্ষককে জিম্মি, ২ লাখ টাকার চেকসহ গ্রেপ্তার ৪

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনতাই, স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ হানি ট্র্যাপ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে এক বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাইয়ের বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার নাঈম হোসেন (২৫)।

মিডিয়া সেলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষক। গ্রেপ্তার চামেলী আক্তার মিলির সাথে আগে থেকেই মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল তার। সেই সুবাদেই গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে ওই শিক্ষককে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি। শিক্ষক বাসায় পৌঁছানো মাত্রই ওঁৎ পেতে থাকা প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখায়। পরবর্তীতে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করলে মাঠে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের পর তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই নেওয়া সেই ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় ব্ল্যাকমেইলার চক্র। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে নির্জন স্থানে ডেকে আনতো। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এমআর

Link copied!