কাজিপুর(সিরাজগঞ্জ)সংবাদদাতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

নগর থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে, ৪০ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা ১০ পরিবারের

কাজিপুর(সিরাজগঞ্জ)সংবাদদাতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

নগর থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে, ৪০ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা ১০ পরিবারের

সামনেই পাকা সড়ক, আশপাশে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন জনবসতি। অথচ মাত্র ৩০ ফুট চওড়া একটি খাল যেন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ১০টির বেশি পরিবারকে। প্রায় ৪০ বছর ধরে বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো কিংবা খালের পানি পেরিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। বর্ষা মৌসুমে খালে ১০ ফুটের বেশি পানি থাকায় চারপাশ পানিতে ডুবে এলাকাটি অনেকটা দ্বীপের মতো হয়ে পড়ে।

এ চিত্র সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিয়ারা চরপাড়া গ্রামের। শুকনো মৌসুমে মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ আর বর্ষায় শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল পারাপারে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়। সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীরাও একাধিকবার পানিতে পড়ে আহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা খালের ওপারে বাড়ি করেন। পরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সেখানে এসে বসতি গড়েন। বর্তমানে ছোট এই পাড়ায় ১০টির বেশি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করে।

৬৬ বছর বয়সী ফজলার রহমান বলেন, ‘আমার জীবন তো চলেই গেল। নাতিপুতিরা খুব দুর্ভোগে আছে, ওরা স্কুলে যায়। গরু-ছাগল কথা বলতে পারে না, পারলে বোঝা যেত দুর্ভোগ কতটা নির্মম।’

স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ারা খাতুন বলেন, চারদিকে পানি থাকায় তারা অনেকটা দ্বীপে নির্বাসিত মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন। গত কয়েক বছরে সেতু নির্মাণের দাবিতে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।

বিউটি খাতুন বলেন, ‘বাড়িঘরের উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। বিয়ের উপযুক্ত ছেলেমেয়ে ঘরে আছে। বাড়িতে লোকজন আনতে পারি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখে অনেক সময় সম্বন্ধও এগোয় না।’

কাজিপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম (লিটন) বলেন, টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এলাকায় কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ এসব প্রস্তাব পাস হতে পারে।

এ বিষয়ে কাজিপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!