চাঁদপুর প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

ইলিশ সংকটে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছঘাট

চাঁদপুর প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

ইলিশ সংকটে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছঘাট

একসময় দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত ছিল চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট। ব্রিটিশ আমলে ডাকাতিয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ মাছ কেনাবেচা হতো। ইলিশের মৌসুমে জমে উঠত কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। এবার ভরা মৌসুমেও ঘাটে ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কম।

মাছের সংকটে লোকসান গুনছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি মাছ পরিবহন, বরফ সরবরাহ ও শ্রমিকসহ ঘাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন পেশার মানুষও পড়েছেন সংকটে। দীর্ঘদিনের কর্মচাঞ্চল্য হারিয়ে ঐতিহ্যবাহী মাছবাজারটি এখন অস্তিত্বের সংকটে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর নাব্যতা সংকট, ডুবোচর, দূষণ ও অবৈধ কারেন্ট জালের কারণে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ কমেছে। তারা নদীদূষণ বন্ধ, ডুবোচর খনন এবং ইলিশ রক্ষা অভিযান আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘাটে মাছ কিনতে আসা ক্রেতারাও সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ করছেন। তাদের ভাষ্য, ভরা মৌসুমেও দাম কমার বদলে বেড়েই চলেছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক ক্রেতাই ইলিশ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, ইলিশের মূল মৌসুম চললেও ঘাটে মাছ নেই বললেই চলে। নদীদূষণ, ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক কারণ, বন্যা ও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। এর সঙ্গে নদীর নাব্যতা সংকট, ডুবোচর ও দূষণও ইলিশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি জানান, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও ডুবোচর দূর করার বিষয়ে একটি কারিগরি দল চাঁদপুর পরিদর্শন করেছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরুর কথা রয়েছে।

তবে এ অভিযান নিয়ে মৎস্য বিভাগও উদ্বিগ্ন। কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের জন্য বাজেট থাকা প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও স্পিডবোটের চালকের সংকট রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!