হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তীব্র জনবল সংকট। ১৮টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় একদিকে যেমন কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে, অন্যদিকে ভূমিসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তিন পদ—সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো ও সার্ভেয়ার—বর্তমানে শূন্য। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম গত জুলাইয়ে যোগ দেওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় বদলি হন। কানুনগো পদটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে শূন্য রয়েছে। আর সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র যোগ দেওয়ার পর প্রায় চার মাস ধরে পদটি খালি।
বর্তমানে বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ জেলা প্রশাসকের অধীন গ্রহণ শাখায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাধবপুরের সার্ভেয়ারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে কর্মরতদের।
মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট। মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। ওই অফিসের আওতায় ৯৯টি মৌজা থাকায় কাজের চাপও বেশি। বালুমহাল এলাকায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে অভিযান এবং বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার দায়িত্বও পালন করতে হয় কর্মকর্তাদের।
কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। স্থানীয়ভাবে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমিসংক্রান্ত কাজ বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।
মাধবপুর সদর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুটি করে পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত আছেন।
জনবল সংকটের কারণে ই-নামজারি, খাজনা আদায়, ভূমিসংক্রান্ত তদন্ত, শুনানি ও অন্যান্য ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। কর্মরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের কাজের চাপও বাড়ছে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই কর্মকর্তারা রাত পর্যন্ত কাজ করে দায়িত্ব পালন করছেন। শিগগিরই এ সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন করা না হলে ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
