টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাসড়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে পানি জমে থাকে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগের পাশাপাশি মসজিদ ও পাশের বাজারে চলাচলকারী মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছেন।
উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের ১১৪ নম্বর হাসড়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশে রয়েছে মসজিদ, বসতবাড়ি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাকা সড়ক। বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে স্থানীয় বাজার। এসব স্থাপনার কারণে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে ছোট শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি পার হয়ে চলাচল করতে হয়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার সকালে কিছু সময় বৃষ্টির পর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন অংশ হাঁটুপানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে মাঠটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। আগে বিদ্যালয়ের পেছন দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। তবে পেছনের জমি উঁচু করে ভরাট করায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, মাঠ ভরাটের বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া গেলে মাঠ ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২৩ জন শিক্ষার্থী, দুইজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষিকা রয়েছেন।
পাইকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মজনু বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত মাটি ফেলে মাঠটি উঁচু করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম মাহফুজ বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও সমস্যাটির কার্যকর সমাধান হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুলসুম সুলাইমান বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি পূর্ণাঙ্গ থাকলে সভা করে রেজুলেশন করতে হবে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
