বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের নাম আজ সর্বজনবিদিত : প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার

প্রকাশিতঃ 7:49 pm | May 28, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শান্তির অনন্য দূত বাংলাদেশ। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের নাম আজ সর্বজনবিদিত। জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্ব বরেণ্য নেতৃবৃন্দের বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষায় দীর্ঘ ৩৪ বৎসর যাবৎ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের সুনাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিসংঘেরও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রোববার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সাথে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ২৯ মে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২২’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ‘জনগণের অংশীদারিত্বেই শান্তি ও সমৃদ্ধি’ এই মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এ বছরের ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২’ পালিত হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী দপ্তরের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ দিবসটি উপলক্ষ্যে আমি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্যকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় তাঁদের অসামান্য অবদানের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

‘আমি জেনে আনন্দিত যে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বর্তমানে ০৯টি মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ৬৩২৪ জন এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ৫০১ জন সদস্য নিয়োজিত আছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৪৩টি দেশের ৫৫টি শান্তিরক্ষা মিশনে ১,৮৩,৩৭৮ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণ করে জাতিসংঘের ইতিহাসে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।’

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর নারী সদস্যগণও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখে প্রশংসিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ২৮৪১ জন নারী শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ মিশনের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নারী ক্ষমতায়নে এবং নারী-পুরুষ সমতা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকালে এ যাবৎ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৩৯ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ২২ জন সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি আত্ম উৎসর্গকারী ঐ সকল বীর শান্তিরক্ষীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তাঁদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

‘এছাড়াও, এ মহতী কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর ২৪০ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আমি তাঁদের সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিঃস্বার্থ এই আত্মত্যাগ জাতিসংঘের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীগণ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের উপর অর্পিত দায়িত্ব, প্রতিকূলতা ও বাধা বিপত্তি পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ তারা শুধুমাত্র কোভিড-১৯ মহামারীর সাথেই লড়ছে না, মিশন এলাকায় নিয়োজিত থেকে শান্তিরক্ষায় ও জনগণের সুরক্ষায় অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রতিকূল সময়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে সমগ্র বিশ্বে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ায় তাদের সুরক্ষা কামনা করছি।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এ সময় ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২২’ এর সার্বিক সাফল্য এবং সকল শান্তিরক্ষীদের উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করেন।

আরও পড়ুন

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email