শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

প্রকাশিতঃ 12:24 pm | August 22, 2018

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো:

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল ঈদুল আজহার ১৯১তম জামাত। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মার্কাস জামে মসজিদের খতিব মুফতি হিবজুর রহমান। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

নামাজে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিকসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

শোলা কিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিতজামাতে অংশগ্রহণ করতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। এ সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঈদ জামাতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দু’টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। এর একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ‘শোলাকিয়ায় এবারের ১৯১তম ঈদুল আজহার জামাতে শান্তিপূর্ণভাবে লাখ লাখ মুসুল্লিরা নামাজ আদায় করেছেন। গরমে মুসুল্লিদের যেন কষ্ট না হয়, তার জন্য প্রতিটি কাতারে পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। এছাড়াও মুসুল্লিদের সুষ্ঠু নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছিল।’

শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিতপুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, এবার ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চার স্তরের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দুই প্লাটুন বিজিবিসহ র‌্যাব, পুলিশ, আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয় মুসল্লিদের। এছাড়াও যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে, মাঠের সার্বিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে এবং মুসল্লিদের ওপর নজরদারি করতে দুটি ড্রোন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হয়েছে।

জনশ্রতি আছে, কোনও এক ঈদের জামাতে শোলাকিয়ায় সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

কালের আলো/

Print Friendly, PDF & Email