সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি বিমানের ক্যাপ্টেনকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করার পর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন তার কো-পাইলট। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল এ তথ্য জানান। তবে কো-পাইলট কেন এমন হামলা চালিয়েছেন, তা এখনো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন তিনি।
হামলার শিকার ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় কুড়ালের আঘাতে ককপিটের ভেতর পড়ে যান। আহত অবস্থায়ও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন বলে জানান। পরে তার চিৎকার শুনে কয়েকজন যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ককপিটে সাধারণত কুড়াল রাখা থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান বিধ্বস্ত হলেও সেটি অক্ষত থাকলে কুড়াল ব্যবহার করে যাত্রী ও ক্রুরা বিমানের ভেতর থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন।
আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল জানান, হামলার পেছনে কো-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওমানের নাগরিক হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। জীবনের একটি বড় সময় তিনি সিরিয়াতেও কাটিয়েছেন।
হামাম ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি অনলাইনে পড়াশোনা করে ২০২৩ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামামের এক্স ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পরবর্তীতে মুছে দেওয়া হয়েছে। এর আগে তার ইনস্টাগ্রামে বিমানের ককপিট থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে ইসরায়েলি বিমান দেখানোর পাশাপাশি আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং জর্ডানীয় নাগরিক হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওইয়ের ছবি দেখা যায়।
এ ছাড়া তার আরেকটি ভিডিও পোস্টে এআইয়ের মাধ্যমে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের ছবি দেখানো হয়েছিল। ভিডিওটির পেছনে একটি ইসলামিক কবিতা বাজছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
