সরকারি সংস্থাকে নিজেদের টাকায় চলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 4:47 pm | May 04, 2021

নিজস্ব প্রতিবদেক, কালের আলো:

সরকারি সব সংস্থাকে নিজেদের টাকায় চলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মতো সরকারি সব সংস্থাকে নিজেদের টাকায় চলতে হবে। নিজেরা যে টাকা আয় করে, সেই টাকা দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার(০৪ মে) অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ সাংবাদিকদের জানান।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে খাল খনন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো তো নিজেরা আয় করে। তাহলে যে টাকা আয় করে, সেই টাকা দিয়ে কেন চলতে পারে না। কেন সরকারের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো এবং স্বাবলম্বী হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে সংস্থাগুলোকে টাকা দেওয়া হবে না বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

তাহলে সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে চলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ব্যবসা করবেন, সেখানে তো আমি গিয়ে বুদ্ধি দিতে পারি না। আপনি ব্যবসা করেন, তাই আপনিই বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করুন। সকাল-সন্ধ্যায় যদি মন্ত্রী–সচিবেরা সংস্থাগুলোকে বুদ্ধি দিতে যান, সেটা নিশ্চয়ই ভালো দেখাবে না।’

খাল খনন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সাবধান! খাল খননের নামে যেসব কাণ্ড হয়! এটা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জানেন। আমরাও সবাই মোটামুটি জানি। তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, সেচে সেচে উপরের দিকে দেখিয়ে…। মানে দেখাবার একটা প্রবণতা আছে। সেদিকে আমাদের তিনি সাবধান করেছেন।’

আজ একনেক সভায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন’ প্রকল্পের সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ দুটোই বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে ১৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা খরচ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিএসএমএমইউয়ের কাজ শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলছে এটা, তাড়াতাড়ি শেষ করুন। আর কত দিন নেবেন?’

উপজেলা পর্যায়ে যেসব স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে, তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল নামে যে স্টেডিয়ামগুলো করা হবে, সেখানে তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। নো রিজার্ভ। কোনো ক্লাবের বা ব্যক্তির আওতায় থাকবে না। ইউএনওরা দেখভাল করতে পারবেন। কিন্তু সবাই খেলার অধিকার পাবে। সেটা উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং বসার জায়গাও রাখতে হবে। এভাবে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাচ্ছেন।’

প্রধানমন্ত্রী গণভবনে থেকে ভার্চ্যুয়ালি একনেক সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরে পরিকল্পনামন্ত্রী তাঁর দপ্তর থেকে ভার্চ্যুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

কালের আলো/ডিএসকে/এমএম

Print Friendly, PDF & Email