ঋণ শোধ করতে কিডনি বিক্রির লিফলেট বিতরণ, ব্যর্থ হয়ে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা করেন

প্রকাশিতঃ 5:19 pm | April 22, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঋণগ্রস্থ হয়ে কিডনি বিক্রির লিফলেট বিতরণ করেন মো. আরিফুল ইসলাম (২৭)। সে চেষ্টায় ব্যর্থ হলে পাওনাদারদের ভয়ে রাজধানীর মিরপুর-১সহ বিভিন্ন জায়গায় আত্নগোপনে ছিলেন। এক পর্যায়ে ইউটিউবে ব্যাংক বা এটিম বুথ ডাকাতির দৃশ্য দেখতে পেয়ে সে অনুযায়ী এটিএম বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা থেকে গত ১০ এপ্রিল শাহজাদপুর মধুমতি ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হাসান মাহমুদকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন আরিফুল। তবে হত্যার পর নানা চেষ্টায় এটিএম মেশিন ভাঙ্গতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তিনি।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ঈদের আগের দিন গত ১০ এপ্রিল ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামি গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর প্রগতি স্মরনীর মাইশা চৌধুরী টাওয়ারে অবস্থিত মধুমতি ব্যাংকের এটিএম বুথে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড হাসান মাহমুদকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনা নিহতের ভাই মাহফুজুর রহমান রুমেল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গুলশান থানায় মামলা রুজু করেন।’

এ মামলার মূল ঘটনা উদঘাটনের জন্য থানা পুলিশ, সিআইডি এবং অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি ডিবি গুলশান জোনাল টিম মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ডিবি প্রধান জানান, তদন্তকালীন তথ্য প্রযুক্তি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ও পরিহিত পোশাক এবং গোয়েন্দা সূত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকারী শনাক্তের পর রাজধানীর কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে মো. আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত ১০/১২ বছর ধরে বিভিন্ন অফিস ও বাসা বাড়ির আসবাবপত্র পরিবহনের কাজ করত। ২/৩ বছর আগে সে তার বন্ধু বান্ধবের পরামর্শে এ ব্যবসার পাশাপাশি ইট, বালি ও পাথর সরবরাহের ব্যবসা শুরু করে। এ ব্যবসায় লোকসান হওয়ার কারণে সে ১৪/১৫ লাখ টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সে তার একটি কিডনি বিক্রির চেষ্টা করে মিরপুর এলাকায় লিফলেট ছাড়ে। কিন্তু কিডনি বিক্রি করতে পারেনি তিনি এবং পাওনাদারদের ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘পাওনাদারদের চাপে ও ভয়ে সে গত ৩/৪ মাস ধরে পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজধানীর মিরপুর-১সহ বিভিন্ন জায়গায় আত্নগোপন করে থাকে। টাকা পরিশোধ কিভাবে করা যাবে সে চিন্তা ভাবনা ও পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতা সে এটিএম বুথ লুট করার উদ্দেশ্যে পাশবিক কায়দায় নির্মমভাবে বয়বৃদ্ধ বুথের নিরাপত্তাকর্মী হাসান মাহমুদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করে।’

ইউটিউব দেখে বুথ লুটের পরিকল্পনা এবং চেষ্টা

ডিবি প্রধান আরও জানিয়েছেন, ইউটিউবের মাধ্যমে ব্যাংক/এটিম বুথ ডাকাতির দৃশ্য দেখতে পেয়ে খুন করে হলেও এটিম বুথের টাকা লুট করার পরিকল্পনা করে গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেট থেকে সে হাতুড়ি, ছেনি, মিরপুর পল্লবী মিল্লাত ক্যাম্প মোড় থেকে চাপাতি, সাবল, চাকু ও মিরপুরপুর স্টেডিয়ামের ফুটপাত থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একটি জার্সি ক্রয় করে। এরপর নিরিবিলি এলাকা এমন এটিম বুথের অবস্থান খুঁজতে থাকে।

তিনি বলেন, গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর, ৩০/বি, মাইশা চৌধুরী টাওয়ার, মধুমতি ব্যাংকের এটিএম বুথ নিরিবিলি মনে হওয়ায় সে এই এটিএম বুথ লুটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী গত ১০ এপ্রিল পর্য্যবেক্ষণ করে সে আনুমানিক ৫টা ১৩ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করাকালীন এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হাসান মাহমুদের বাধার সম্মুখীন হওয়ায় সে তাকে চাপাতি দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করে হাতুড়ি, হেমার, ছেনি, সাবল ও চাপাতি দিয়ে এটিএম মেশিন ভাঙ্গার চেষ্টা করে।

এক পর্যায়ে প্রায় ১০/১২ মিনিট চেষ্টা করে এটিএম মেশিন ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে ব্যবহৃত হাতুড়ি, ছেনি, সাবল, চাপাতি ও ব্যাগ ঘটনাস্থলে রেখে একটি ছোট চাকু নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর ভোর ৫টা ৩১ মিনিটের দিকে মিরপুরগামী অছিম পরিবহনের বাসে উঠে মিরপুরের দিকে চলে যায়।

এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কিনা জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, আরিফুল ইসলামই একাই এ ঘটনায় ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএইচ/এসবি

Print Friendly, PDF & Email