কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি সেনাপ্রধানের

প্রকাশিতঃ 5:44 pm | April 07, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাস দমনে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। বান্দরবান সফর করে কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের শান্তি রক্ষার যা করণীয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তা করা হবে, কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রোববার (৭ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান সেনাজোন মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘যা আমাদের করণীয় আমরা সব করছি। যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে শনিবার (৬ এপ্রিল) রাতে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নিরাপত্তার স্বার্থে ঠিক কতজনকে আটক করা হয়েছে তা না জানালেও তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে গতকাল রাত থেকে কেএনএফ সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কম্বাইন্ড অপারেশন শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যৌথবাহিনীর অভিযান চলবে।

তিনি বলেন, শান্তি কমিটির সঙ্গে কেএনএফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আলোচনা চলছিল। দুটি মুখোমুখি সংলাপ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, তৃতীয় বৈঠকের আগেই তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটালো। বমদের সানডে আয়োজনে ৩১ মার্চ রুমায় বেতেলপাড়াসহ সবগুলো গির্জায় সেনাবাহিনী কেক পাঠিয়েছে, উৎসব আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু গত ২ এপ্রিল তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটালো, মনের ভেতরে কী আছে সেটি তো জানা মুশকিল। তবে সরকার তাদের বিশ্বাস করেছিল, কেএনএফ বিশ্বাস রাখেনি।

তিনি আরও বলেন, কম্বাইন্ড অপারেশন এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমও চলছে। তাই অপারেশনের সবগুলো দৃশ্যমান নয়। কিছু কার্যক্রম অদৃশ্যে চলবে, যা সাধারণ মানুষ দেখবে না, কিন্তু সুফল ভোগ করবে। তারা দেখতে পারবে যে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা বাংলাদেশে নাই। বাংলাদেশ সেনা বাহিনী সম্পূর্ণভাবে সক্ষম এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য।’

সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অভিযান চলমান রয়েছে। এটা একটা সমন্বিত প্রচেষ্টা। গোয়েন্দারা তাদের জায়গা থেকে যা করণীয় করছে। বিজিবি তাদের কাজ করছে। র‍্যাব–পুলিশের যেটা করনীয় সেটা তারা করছে। সেনাবাহিনীও তাদের করণীয় করছে। সবকিছু আমরা সমন্বয় করছি। এক সাথে। এটা কোনো আইসোলেটেড অপারেশন হচ্ছে না। এখানে আমরা সরকার যেটা চাচ্ছে, সেই কৌশলের মধ্যে থেকেই আমরা আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

সেনাপ্রধান বলেন, ‘বুঝতে হবে। ওখানে যদি একটা ফোর্স ডিফেন্স নিয়ে থাকত, আমি অ্যাটাক করে দিলাম। এরকম কেউ কি কোথাও ডিফেন্স নিয়ে আছে? আপনি জানেন কোথায় কে লুকিয়ে আছে? বাংলাদেশের পাড়ার ভেতর, জনগনের ভেতর যদি কেউ লুকিয়ে থাকে আমি কি বাংলাদেশের মানুষের ওপর গিয়ে কি হামলা করব? সুতরাং আমাদের তথ্য নিশ্চিত হতে হবে। কে কোথায় আছে। তারা কোথায় কোথায় আছে সেগুলো আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘আগাম তথ্য থাকলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম। আমরা তাদেরকে বিশ্বাস করেছি। তারা তো দুই বার বসেছে শান্তিচুক্তির জন্য। তৃতীয়বার বসার কথা। তারা কি কখনও বলেছে, যে না হবে না, আমরা এটা করছি না বা মানি না। আমি যতটুকু শুনেছি, সবাই এর সঙ্গে জড়িত না। কিছু কিছু শান্তি চায়। কয়েকজন আছে যারা চাচ্ছে না। তাদের নির্মূল করা হবে।’

এ সময় সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মজিবুর রহমানসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সেনাপ্রধান হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে বান্দরবান সেনা রিজিয়নে পৌঁছান। পরে রিজিয়ন কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

অন্যদিকে সকাল থেকে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও লুট করা টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ৭০-৮০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী রুমা উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘেরাও করে। তারা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে পাহারারত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করতে থাকে। ব্যাংকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

গত বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে থানচি উপজেলার সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ১টার দিকে বান্দরবানের আলীকদম থানার ডিম পাহাড়ের ২৬ মাইল এলাকায় পুলিশ ও সেনাদের যৌথ তল্লাশিচৌকিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email