রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ‘উত্তরসূরী’ হচ্ছেন কে?

প্রকাশিতঃ 11:08 pm | January 21, 2023

কালের আলো রিপোর্ট :

আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকগুলো নাম। গণমাধ্যমে বিশ্লেষণী নানা প্রতিবেদনও ঠাঁই পাচ্ছে। চায়ের টেবিল থেকে অফিসপাড়া বা সাধারণ মানুষ সব জায়গাতেই একটিই প্রশ্ন- কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? টানা দু’মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা মো. আবদুল হামিদের উত্তরসূরী নির্ধারণে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ে এ নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি এখনো। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারও নাম নিয়ে অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও করেননি। ফলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে ২৩ এপ্রিল। এর ৯০ থেকে ৬০ দিন আগে হলে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষণগণনাও শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি)। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির ১৯ বা ২০ তারিখকে ভোটগ্রহণের তারিখ হিসেবে চূড়ান্ত করে ৪ বা ৫ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে মিলেছে এমন তথ্য। তাই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন সেটি জানতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে।

সাধারণত নিজেদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয় ক্ষমতাসীন দল। আর এ কারণেই এরই মধ্যে আওয়ামী লীগে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি পদ কে পাবেন তা নিয়ে গুঞ্জন। তবে আওয়ামী লীগ চাইলে নিজ দলের নেতাদের বাইরে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিকেও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিতে পারে।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনার টেবিলে উচ্চারিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নাম। যদিও ওবায়দুল নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ্য মনে করেন না। তিনি নিজেই এমন বক্তব্য দিয়ে সবকিছু পরিস্কার করে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ড. মসিউর বা শিরীন শারমিন- এ দু’জন থেকে যেকোন একজন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

কেউ কেউ বলছেন, মসিউর রহমান কয়েক মাস থেকে আড়ালে থাকছেন। দলীয় কর্মসূচিতেও তাকে দেখা যাচ্ছে কম। তারা মনে করছেন শেষ মুহুর্তে মসিউর রহমান যেন বিতর্কিত না হন এ কারণে তাকে দূরে রাখা হয়েছে। মসিউর রহমান টানা তিন দফায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য হন। পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সব চাপ সহ্য করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য সম্মুখভাগে লড়াই করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্ত।

আবার ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারীকে রাষ্ট্রপতি করতে চান এমন আলোচনা থেকেই শিরীন শারমিনের নাম অনেক আগে থেকেই যুক্ত হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ড.শিরীন সব রকমের বিতর্কমুক্ত। টানা তিন বার স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনাতেও তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। নারীদের মধ্যেও স্পিকার হিসেবে তিনিই প্রথম। ইতিহাস সৃষ্টি করেই বাংলাদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন স্পিকার। বিশেষ করে বন্ধুপ্রতীম ভারতে দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

কারও কারও ভাষ্য হচ্ছে- বর্তমান স্পিকারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২ জন স্পিকার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদউল্লাহ, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। এই হিসাবেও আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে ড.শিরীনের নাম।

রাজনৈতিক অঙ্গনে গত ক’দিনের আলোচনা শিরীন শারমিনই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এর বেশ প্রভাবও দেখা গেছে। অনেকেই নিজ নিজ ফেসবুক পোস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো সূত্র প্রকাশ করেননি। এই বিষয়টিতে বেশ বিব্রত স্পিকার নিজেও, এমন কথাও জানিয়েছে কোন কোন সূত্র। স্পিকারের অনুসারী বা পছন্দের কেউ এমন প্রচারণায় সম্পৃক্ত নন এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছেন এই প্রতিবেদক।

এই দু’জনের নামের বাইরেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের নামও আলোচিত হচ্ছে। নীরবে-নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এই ব্যক্তিও হতে পারেন রাষ্ট্রপতি। তবে সবকিছুতেই চমক দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার রাষ্ট্রপতি পদেও বড় চমক দিতে চলেছেন এটি শতভাগ নিশ্চিত। সেই চমক দেখার অপেক্ষায় এখন দেশের মানুষ।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email