কক্সবাজারের মহাসমুদ্রেও নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 6:18 pm | December 07, 2022

কক্সবাজার প্রতিবেদক, কালের আলো:

চট্টগ্রামের পর কক্সবাজারেও জনসমুদ্র নয় যেন মহাসমুদ্র। ঢল নেমেছিল উন্নয়নের পক্ষে জনতার। বুধবার (০৭ ডিসেম্বর) শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহাসমুদ্রে মঞ্চে দাঁড়িয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, আমি জাতির পিতার কন্যা যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি। আপনাদের ভাল-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। আপনারাই আমার সব। সেটা মনে করেই আমি কাজ করি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাাচন হবে। সেই নির্বাচনেও আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টার বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের পাঠের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়। এরপর স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন।

জনগণের কল্যাণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি জাতির পিতার কন্যা যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি। আপনাদের ভাল মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। আপনারাই আমার সব। সেইটা মনে করেই আমি কাজ করি।

তিনি বলেন, আমি একটি কথাই বলতে চাই, আমার তো আর কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি। সব হারিয়ে আমি নিঃস্ব রিক্ত। কিন্তু এই বাংলাদেশের মানুষ যাদের জন্য আমার বাবা তার জীবন দিয়ে গেছেন। সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন। যাদের জন্য আমার মা জীবন দিয়েছেন। আমার ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন। আজকে আমি ও আমার ছোট বোন বাবা-মা সব হারিয়েছি। এই হারাবার বেদনা কি কঠিন যারা আপনজন হারায় তারাই জানে।

প্রধামন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের আপনজন হারিয়েছি কিন্তু জাতির পিতা যদি বেঁচে থাকতেন এই বাংলাদেশ ১০ বছরের মধ্যে উন্নত দেশ হতো। কিন্তু সেটা আর আমাদের ভাগ্যে হয়নি। আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। তার সেই লক্ষ্যই অর্জন করা আমাদের একমাত্র কাজ। কাজেই আমি বাবা-মা-ভাই হারিয়ে আজকে আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেতে চাই আমার হারানো বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ, বোনের স্নেহ। আমি আপনাদেরকেই আমার আপনজন বলে মনে করি। বাংলোদেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমার একমাত্র কাজ।

তিনি বলেন, আজকের এই সভায় আপনারা কষ্ট করে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন। এতো বিশাল জনসভা অনেক দূরে অনেকে আছেন হয়ত চোখের দেখা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু যত দূরেই থাকেন আপনারা আমার হৃদয়ে আছেন, হৃদয়ের অন্তরে অবস্থান করে নিয়ে আছেন। কারণ আমি বাবা-মা হারানোর শোক নিয়েও এদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শুধু একটি কথা স্মরণ রেখে। প্রত্যেকটা গ্রাম; সেই গ্রামে যারা বাস করে শহরের সব সুযোগ সুবিধা তারা পাবে। প্রত্যেকেটা গ্রামেই শহরের সুবিধা পাবে। প্রত্যেকটা গ্রামকে শহর হিসাবে গড়ে তুলে প্রতিটি মানুষকে উন্নত জীবন দেওয়া এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। সেইভাবেই রাস্তাঘাট পুল, ব্রিজ, রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথের উন্নয়ন করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। ২০২১ সালে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি। তখনই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যা পেয়েছে। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলবো। ২০৪১ সালের মধ্যে এই বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছেন বলে জানান তিনি।

মুজিববর্ষের অঙ্গীকারের কথা পুর্নব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আপনাদের অনুরোধ করি, যার যার এলাকায় একটি মানুষ যদি ভূমিহীন থাকে একটি মানুষ যদি পরিবার ভূমিহীন থাকে। সেই পরিবারের নাম ঠিকানা দেবেন আমরা বিনা পয়সায় সকলকে ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। জীবন-জীবীকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দেশে কোন মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না, কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোন মানুষ অভুক্ত থাকবে না। কোন মানুষ অশিক্ষিত থাকবে না। প্রত্যেকের জীবন মান উন্নত হবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যই নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা ২০১৮-তে ভোট দিয়েছেন নৌকা মার্কায়। আমরা এই কক্সবাজারের উন্নয়ন করেছি। পরপর তিন বার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। ধারাবাহিকভাবে ২০০৯ সাল থেকে এই ২০০২ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আছে বলেই এই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আগামী নির্বাচনেও ২০২৪’র জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাাচন হবে। সেই নির্বাচনেও আমি আজকে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। এসময় তিনি প্রতিশ্রুতি চাইলে সমাবেশে উপস্থিত জনতা দুই হাত তুলে ভোট দেওয়ার ওয়াদা করেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কক্সবাজার বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রিক্ত আমি নিঃস্ব আমি দেবার কিছু নেই আছে শুধু ভালবাসা দিয়ে গেলাম তাই। আপনারা দোয়া করবেন, আমিও দোয়া করি। আপনারা ভাল থাকেন। সুস্থ থাকেন। উন্নত জীবন পান। সেই কামনা করি। পর্যটন নগরী কক্সবাজারবাসীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে আবারও কোন একদিন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের তীরে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় পাঁচ বছর পর একদিনের সফরে কক্সবাজারে আসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ সফরে ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। ১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে ৫৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার পরপর প্রধানমন্ত্রী উখিয়া উপজেলার সমুদ্র তীরবর্তী ইনানীতে বাংলাদেশসহ ২৮টি দেশের নৌবাহিনী ও উপকূলীয় সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ-২০২২ এর উদ্বোধন করেন এবং সেখানে বক্তব্য রাখেন। ওই অনুষ্ঠান শেষে সাড়ে তিনটার পরে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে জনসভা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুর ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের,সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতারা।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email