গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার পর র‍্যাবের হাতে ধরা

প্রকাশিতঃ 10:40 pm | September 15, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

কম মূ্ল্যে অনলাইনে গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‍্যাব জানিয়েছে, আটককৃতরা অনলাইনে বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম বিক্রয়ডটকম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কম মূল্যে গাড়ির বিজ্ঞাপন দিয়ে বুকিং ও শুল্ক পরিশোধের কথা বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিতো একটি চক্র। কিন্তু গাড়ি ডেলিভারির সময় হলে ক্রেতারা বুঝতে পারতেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। আর সেই টাকা ফেরৎ চাইলে চম্পট দিতো চক্রটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব ১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, এদিন গুলশান থানা এলাকার নিকেতন আবাসিক এলাকার ‘মুন অটোমোবাইলস’-এর অফিসে অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. হারুনুর রউফ খান মজলীস ওরফে মুন এবং তার সহযোগী পার্থ বিশ্বাসকে (২৫) গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ভাউচার, প্যাড ও সিল ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, হারুনুর রউফ খান মজলিস মূলত প্রকৃত মূল্য না দিয়ে কম মূল্যে গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার পেশা। সে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

প্রতারণার কৌশলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে হারুনুর রউফ খান মজলিস র‌্যাবকে জানিয়েছে, সে ২০১০ সালে রাজধানীর গুলশান, নিকেতন আবাসিক এলাকায় ‘মুন অটোমোবাইলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলে। পরবর্তী সময়ে সে বহুল প্রচলিত অনলাইন শপ ‘বিক্রয়ডটকম’ ও ‘ফেসবুক’ ব্যবহার করে তার ব্যবসার প্রসার ঘটায়। সে প্রথমে নামীদামী গাড়ির মূল্য কমিয়ে অল্প দামে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়। ক্রেতারা লোভনীয় বিজ্ঞাপনে তার সাথে যোগাযোগ করলে গাড়ির কাগজপত্র দেখিয়ে গাড়ি পছন্দ করলে গাড়ির বুকিং বাবদ ২ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং শুল্ক পরিশোধ বাবদ ১ থেকে ২ লাখ টাকা দাবি করে এবং বাকি টাকা গাড়ি ডেলিভারির সময় পরিশোধের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ডেলিভারি না করায় ক্রেতারা গাড়ির জন্য চাপ প্রয়োগ করলে অভিযুক্ত হারুনুর রউফ খান তার পরিচিত বিভিন্ন গাড়ির শোরুমে নিয়ে গিয়ে গাড়ি দেখিয়ে আরও সময় ক্ষেপণ করে। ক্রেতারা যখন ওইসব শোরুমে গাড়ির জন্য পুনরায় যোগাযোগ করে তখন শোরুম কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে গাড়ি বিক্রয়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানায়।

পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তকে ফোন দিলে টাকা ফেরত দিতে ২ থেকে ৩ দিনের সময় নিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে বারবার বাসা ও অফিস পরিবর্তনসহ মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে ক্রেতার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতো বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email