৬ এসপির কর্মযজ্ঞে নতুনত্ব, মঙ্গলের বারতা আলোকময় ভাবনায়

প্রকাশিতঃ 12:07 am | April 24, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া জেলা পুলিশের বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রফিকুল ইসলাম স্মরণে পুলিশ লাইন্স প্যারেড মাঠের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বহুতল ভনের নিচতলায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম গড়ে তুলেছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ‘শহীদ করোনাযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম লাইব্রেরী’ ও সাইবার ক্যাফে।

১৯১৬ সালে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক দালানকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যাগে সফল হয়েছেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা। গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর। এখন সেটি উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

আবার, শিশুরা কীভাবে পুলিশকে নিজেদের বন্ধু ভাববে তাঁর মন্ত্র গেঁথে দিয়েছেন ফেনী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মামুন। এক ঝাঁক কচিকাঁচাকে নিয়ে তিনি সম্প্রতি আয়োজন করেন বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ভিন্নধর্মী ‘ফেনী পুলিশ যেমন চাই’। শিশুদের নিরাপত্তা আর বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশী সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে এমন অভিনব কর্মপ্রয়াসে আলোড়িত-আন্দোলিত সবাই।

ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যানধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্ন হয়ে পুলিশের পরিবর্তনের স্বপ্নযাত্রার অগ্রনায়ক আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ’র নেতৃত্বে সার্বজনীন ও মানবিকতায় শাণিত নিজ বাহিনীর অবিরাম পথচলাকে আরও গতিময় করতে নতুন আশা, স্বপ্ন সঞ্চার করে মঙ্গলের বারতা নিয়ে তাঁরা ছুটে চলেছেন নিরন্তর।

অভিন্ন এই পথচলায় নিজেদের শামিল করেছেন প্রায় প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারই। তাদের ভেতর রয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ ও চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।

জাতির সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে সিলেট জেলার ১১টি থানা ও পুলিশ সুপার অফিসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি করে বিশেষ চেয়ার বরাদ্দ রেখেছেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বক্ষণিক সেবায় জেলার ৫ টি থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, পরিচয় ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করেছেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স অভ্যন্তরে ‘জ্ঞান অন্বেষণ’ নামক লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন নিজ বাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতির উপযোগী করে গড়ে তুলতে।

‘রোল মডেল’ পুলিশপ্রধান ড.বেনজীর আহমেদ
পুলিশপ্রধান ড.বেনজীর আহমেদ অন্য সবার মতো তাদের কাছেও ‘রোল মডেল’। তাদের দৃপ্ত উচ্চারণে, প্রখর চৈতন্যে বারবার উচ্চারিত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের (আইজিপি) ৫ নীতি। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসের বিশাল ডানায় ভর করে তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় দেশপ্রেমিক বাহিনীটিকে নিয়ে যাচ্ছেন উত্তরণের শিখরলোকে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিদের হটাতে প্রথম রক্ত দেওয়া সেই ইতিহাসের ঔজ্জ্বল্যে তাঁরা পাড়ি দিতে চান সময় ও সামনের পথ। নিজেদের কর্মযজ্ঞে তাঁরা নতুনত্ব, প্রগত চিন্তায় বিরল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ইতোমধ্যেই। শুভাকাক্সক্ষার মানবিক প্রতিজ্ঞায় মিলিত করেছেন নিজেদের। মানবিক যুক্তিবোধের লৌকিক আদলে নিজেদের কর্মপ্রবাহ উদ্ভাসিত করেছেন মুগ্ধ-হৃদয়ে।

ব্রত হয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ’র চির আকাক্সিক্ষত ‘জনতার পুলিশ’ বাস্তবায়নে। জনবান্ধব পুলিশ নীতি বাস্তবায়নে সবিশেষ উপস্থাপন করেছেন নিজেদের স্বকীয়তাকেও। গভীরতর অনুভূতির আলোয় বিষয়ভাবনার দৃষ্টিকোণে সৃষ্টি করেছেন এক স্বতন্ত্র ধারার।

নারায়ণগঞ্জকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ‘অপারেশন ক্লিন স্ট্রিট’ নামে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা পুলিশ।

মোহাম্মদ জায়েদুল আলম
যানজটমুক্ত নারায়ণগঞ্জের খবর এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’। ক’দিন আগে এক সংলাপে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মোটা দাগে এই উদাহরণ উপস্থাপন করেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল থেকে ঈদকে সামনে রেখে পবিত্র রমজান মাসে নারায়ণগঞ্জকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ‘অপারেশন ক্লিন স্ট্রিট’ নামে একটি বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম।

কালের আলোকে তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। তাদের সহযোগিতা করে কমিউনিটি পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম।

বিশেষ কার্যক্রমের শুরুতেই চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু রোড ও নবাব সলিমুল্লাহ রোডের দুই পাশে বাস, লেগুনা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার সবগুলো অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে ট্রাফিক পুলিশ। শহরে অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করাসহ রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংও নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে কোথাও কোন যানজট না থাকায় নগরীর চেহারা অনেকটাই পাল্টে যায়। যানজট না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর হয় এবং স্বস্তি ফিরে আসে নগরবাসীর মধ্যে।

এসপি আবিদার উদ্যোগে লালমনিরহাটে স্থাপিত হয়েছে পুলিশ জাদুঘর।

আবিদা সুলতানা
২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলায় এসপি হিসেবে যোগ দিয়ে আবিদা সুলতানা জানতে পারেন হাতীবান্ধা থানার একটি প্রাচীন পাকা ভবনের কথা। ১৯১৬ সালে নির্মিত এই ভবনটি ভেঙে না ফেলে বা নিলামে তুলে বিক্রি না করে কীভাবে ঐতিহ্য হিসেবে এটি রক্ষা করা যায়, তা মাথায় নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তিনি। সেখানেই তিনি রূপ দেন বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর।

মূলত ২০১৭ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পরিচালকের অভিজ্ঞতার আলোকেই লালমনিরহাটেও তিনি স্থাপন করেন পুলিশ জাদুঘর। এই জাদুঘরে রয়েছে মোট ৭ টি গ্যালারি। এখানে সুলতানি ও মোগল আমল, ব্রিটিশ আমল, ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ তুল ধরা হয়েছে। রয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধ, ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধে পুলিশ। আছে বাংলাদেশ পুলিশ গ্যালারি, আধুনিক সময়কাল।

জানতে চাইলে লালমনিরহাটের এসপি আবিদা সুলতানা কালের আলোকে বলেন, ‘১৯১৬ সালে নির্মিত ভবনটি সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যেতো। বাংলাদেশ পুলিশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বর্ণোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়েই আমি এই বিষয়টিকে সামনে আনতে চেয়েছি। এই জাদুঘরে এলে স্থানীয়রা পুলিশ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে। এছাড়া ব্রিটিশ আমল, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আধুনিক পুলিশের অনন্য সাধারণ পরিবর্তন এসব বিষয়ও সযত্নে উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে স্থাপন করা হয়েছে শিশু বান্ধব পুলিশিং কর্ণারও।’

ফেনীতে নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের অবাধ আড্ডাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলম কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে চালু হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’।

আবদুল্লাহ আল মামুন
অপরাধ শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পৃথক দু’টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছেন ফেনী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মামুন। পুলিশের ১০ সদস্যের পুরুষ সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি টিম জেলায় সন্ত্রাস, ইভটিজিং, ছিনতাই, মাদক কেনা-বেচা, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের অবাধ আড্ডা ও কিশোর অপরাধসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে কাজ করছে।

অন্যদিকে, দক্ষ প্রশিক্ষিত ও অস্ত্র চালনায় পারদর্শী ১০ নারী পুলিশ সদস্য নিয়ে গঠন করা অপর ‘কুইক রেসপন্স টিম’ জেলায় নারীর নিরাপত্তা, স্কুল কলেজে নারীদের ইভটিজিং থেকে রক্ষাসহ নারীদের যে কোনো বিপদে দ্রুত আইনগত সহায়তায় কাজ করছে কুইক রেসপন্স টিম। ঈদ কেনাকাটায় দু’টি টিমের তৎপরতা স্বস্তি দিয়েছে, কালের আলোকে বলছিলেন এসপি আবদুল্লাহ আল মামুন।

এই এসপির আরও একটি উদ্যোগ জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পুলিশকে শিশুদের কাছাকাছি নিয়ে যেতে তিনি থানা প্রাঙ্গণেই আয়োজন করেন ‘ফেনী পুলিশ যেমন চাই’ শীর্ষক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার। এই প্রতিযোগিতায় শিশুরা আঁকা ও লেখার মাধ্যমেই তুলে ধরেন তাঁরা কীভাবে ফেনী পুলিশকে দেখতে চান। এই প্রতিযোগিতায় ছবি এঁকে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার স্কুলছাত্র প্রতিবন্ধী মোনায়েম হোসেন এক লক্ষ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর লেখপড়ারও দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী।

দেশের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসী অধ্যুষিত ফেনী জেলায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা চালু করেছেন এসপি আবদুল্লাহ আল মামুন। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তিনি স্থাপন করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক।
এই ডেস্কে যোগাযোগের জন্য একটা হটলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছেন। এই নাম্বারের কল দিয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা প্রবাসীরা সেবা পাচ্ছেন।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মূল স্রোতধারায় শামিল করতে তাদেরকে নিয়ে দু’টি ক্যাটাগরিতে আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন এসপি আবদুল্লাহ আল মামুন। পাশাপাশি তিনি মাহে রমজানে কোন না কোন এতিমখানা বা মাদ্রাসায় ইফতার করছেন। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দূরে না ঠেলে দেশের প্রয়োজনে আরও যুগোপযোগী হওয়ার পরামর্শে উজ্জীবিত করেছেন প্রতিনিয়ত।

সিলেটের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেয়ার। যেটিতে কেবল বসবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারাই।

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন
সিলেট জেলার ১১টি থানা ও পুলিশ সুপার অফিসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ চেয়ারের বন্দোবস্ত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তাঁর অনুভবে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের শাণিত চেতনা। সেই চেতনা নিয়েই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশকে।

জানা যায়, প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে এই বিশেষ চেয়ারটিতে কেবল বসবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারাই। জেলা পুলিশের এই উদ্যোগে সম্মানিতবোধ করছেন মুক্তিযোদ্ধারা। পুলিশের এই পদক্ষেপে তাঁরা নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন কালের আলোকে বলেন, ‘মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিদের হটিয়ে লাল-সবুজের বাংলাদেশ উপহার দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং দেশের সম্পদ। তাদের সম্মানিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

এস এম শফিউল্লাহ
বিজয় আনন্দে বাঙালির গর্ব আর অহংকারে প্রকাশিত হয় দেশপ্রেম। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই মাটির সবুজ ঘাস লাল হয়েছিল ৩০ লাখ শহীদের রক্তে। চেতনার সঙ্গে মিশে থাকা লাল-সবুজের পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। দেশপ্রেমের এই আবেগ ও চেতনাকে ধারণ করে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ জেলার ৫ টি থানায় মুক্তিযোদ্ধা ও পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, পরিচয় ও মোবাইল নম্বর সাঁটিয়ে দিয়েছেন।

তড়িৎ গতিতে জাতির সূর্য সন্তানদের সেবা নিশ্চিত করতেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণে তিনি তাদের পাশে দাঁড় করিয়েছেন পুলিশকে। জানতে চাইলে গাজীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ কালের আলোকে বলেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাণপুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাসের মহান নেতার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কাহিনী আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরূক রয়েছে। ফলশ্রুতিতে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে এবং তাদের বিশেষ সেবার ব্যবস্থা করতে আমার ৫ টি থানাতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

জাহিদুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স অভ্যন্তরে ‘জ্ঞান অন্বেষণ’ নামক লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। মূলত আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ পুলিশের পদোন্নতি প্রদানের যুগান্তকারী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সেখানে পদোন্নতির একমাত্র শর্ত হচ্ছে পরীক্ষায় যোগ্য হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা।

এক্ষেত্রে এই লাইব্রেরি পদোন্নতির আকাক্সক্ষায় থাকা পুলিশ সদস্যদের জন্য বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে। লাইব্রেরিটিতে পুলিশ সদস্যরা আইনবিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধি, শিষ্টাচার ও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান আহরণের ব্যাপক সহায়তা পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম কালের আলোকে বলেন ‘অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল পাঠাগার। একটি সমাজের রূপরেখা বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠ্যপুস্তক অধ্যায়ন করে মানসিক বিকাশের মাধ্যমে একজন পুলিশ সদস্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলবেন।’

কালের আলো/এবি/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email