রাইসুল ইসলাম আসাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 8:05 pm | March 23, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন খ্যাতিমান দুই বর্ষীয়ান শিল্পী আনোয়ারা বেগম ও রাইসুল ইসলাম আসাদ। অসুস্থতার কারণে আনোয়ারা উপস্থিত হতে পারেননি। তবে রাইসুল ইসলাম আসাদ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করে মঞ্চে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুগ্ধ করেছেন তিনি।

মঞ্চে রাইসুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘যুদ্ধ ফেরত আসাদকে জোরজবরদস্তি করে চলচ্চিত্রে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭২ বেতার-মঞ্চ, ৭৩ সালে চলচ্চিত্র। যারা ঠেলা-ধাক্কা দিয়ে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। বাদ পড়ার ভয়ে তাদের কারও নাম স্মরণ করছি না। তবে একজনের কথা বলতেই হয়- সোহেল সামাদ, সহযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের ২৫ বা ২৬ তারিখে প্রথম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঢাকায়। সোহেল সামাদ আমাকে মঞ্চে তুলে দেয়। ব্যস শুরু হয়ে গেল। ’

একই সঙ্গে এই সম্মাননা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাইসুল ইসলাম আসাদ তার বক্তব্যে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এরপর সেলিম আল দীনের লেখা জ্বালাময়ী একটি সংলাপের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

রাইসুল ইসলাম আসাদের বক্তব্য ও স্লোগানে মুগ্ধতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান অনেকদিন হারিয়ে গিয়েছিল। যে স্লোগান দিয়ে লাখো মানুষ বুকের রক্ত দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তেমনই একজনের মুখে স্লোগানটি শুনে সত্যিই আবারও মুগ্ধ হয়েছি। তাকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। ১৯৭২ সালে তিনি মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। তিনি পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), অন্য জীবন (১৯৯৫), দুখাই (১৯৯৭), ও লালসালু (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৪৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email