অভাবের তাড়নায় ৪ দিনের শিশুকে বিক্রি করে দিলেন বাবা-মা!

প্রকাশিতঃ 3:18 pm | November 12, 2018

বিশেষ প্রতিবেদক, কালের আলো:

একটি নতুন ঘর আর কিছু টাকার আশায় চার দিনের শিশুসন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন তার বাবা-মা। নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক মাস আগে দুলাল-রওশন দম্পতির কোলে জন্ম নেয় এক ছেলে সন্তান। কিন্তু জন্মের চারদিনের মাথায় স্থানীয় আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সেই সন্তানকে তুলে দেওয়া হয় ঢাকায় বসবাসরত চাকরিজীবী দম্পতির কাছে। মাত্র ২০ হাজার টাকা আর নতুন ঘর পাওয়ার আশায় বিক্রি করা হয়েছে সন্তানকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়ার জোরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া, স্ত্রী রওশন আরা ও চার সন্তান নিয়ে থাকেন জরাজীর্ণ টিনের চালার একটি খুপড়ি ঘরে। ঘরটিও ভাইয়ের দেওয়া এক শতাংশ জমির ওপর। অভাব অনটনের সংসার তার। ভিক্ষাবৃত্তি করে যা আনেন তাই দিয়ে স্ত্রীসহ চার সন্তান নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটান। দুলাল মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে মানুষের সাহায্য দিয়েই চলে তার সংসার। অভাবের কারণে নিজের পঞ্চম সন্তানের ভালোর কথা চিন্তা করেই তাকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে দাবি দুলাল মিয়ার।

তার ভাষ্যে, ‌‘আমি অচল মানুষ, অন্যের কাছ থেইক্যা চাইয়া আইন্না কোনো রকমে নিজের আর পুলাপানের পেট চালাই। যে চার পুলা-মাইয়া আছে তাগরেই ঠিকমত খাউন-পোষাক দিবার পারি না। হে লেইগ্যা এই পুলা হওয়ার পরে সাহেবরে দিয়া দিছি। সাহেব কইছে পুলাডা যদি বাঁচে তাইলে খুশী অইয়া আমার ভাঙ্গা ঘরডা কইরা দিবো।’

দুলাল মিয়া যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন গর্ভধারিণী মা রওশন আরা। এ সময় তার মুখাবয়বে যেন ভেসে উঠছিলো বুকফাটা আর্তনাদ। তিনি বলেন, ‘পেটে রাখছি কষ্ট তো লাগবোই। কিন্তু কী করমু, জামাই পঙ্গু, অভাবের সংসার।’

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সন্তান বিক্রি নাকি দত্তক দেওয়া হয়েছে তা খোঁজখবর নিচ্ছেন তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিরা তরফদার বলেন, ‘যদি দত্তক দিতে হয় তাহলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিতে হবে। আর যেহেতু পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় সেক্ষেত্রে চলমান ‌‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় পরিবারটিকে সরকারি খরচে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

কালের আলো/ওএইচ

Print Friendly, PDF & Email