ভোটের ছুটিতে দূরপাল্লার বাস সংকটের আশঙ্কা
প্রকাশিতঃ 5:46 pm | January 31, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশন করায় ভোটের আগে ও পরের সরকারি ছুটিতে যাত্রীদের পরিবহন সংকটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানান সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সারাদেশে দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশন করা হচ্ছে। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কতটি বাস নেওয়া হবে তা জানানো হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রায় ২০ হাজার দূরপাল্লার বাস ইতোমধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে এবং সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মো. সাইফুল আলম বলেন, ভোটের আগে ও পরে সরকারি ছুটি থাকায় মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যাতায়াত করবে। এই সময়ে দূরপাল্লার বাস তুলে নেওয়া হলে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতীয় প্রয়োজনে গাড়ি রিকুইজিশন করা হলেও এভাবে দূরপাল্লার বাস নেওয়ার কোনো নজির নেই। যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দূরপাল্লার বাসের পরিবর্তে জেলা ও শহরতলীর লোকাল বাস ও মিনিবাস রিকুইজিশনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিকুইজিশন করা বাসের ক্ষতিপূরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। তারা জানান, বাস মালিকেরা ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। এসব বাস পরিচালনায় জ্বালানি খরচ, চালক ও হেলপারদের বেতন ও খোরাকি দিতে হয়। কিন্তু রিকুইজিশনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ, জ্বালানি ব্যয় এবং শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কে বহন করবে এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনের আগে তিন দিন ও পরে দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটিতে আন্তঃজেলা রুটে যাত্রীচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এই সময়ে বাস রিকুইজিশন অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান নেতারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
কালের আলো/এসএকে