উজ্জ্বল হাসির দ্যুতিতে পথশিশুরা, পুনাকের সঙ্গে ভাগাভাগি করলো প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আনন্দ

প্রকাশিতঃ 9:30 pm | September 28, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

কোন রাজকন্যা নন। রূপকথার গল্পের মতো এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম তত্ত্বের বিপরীতেই তাঁর সংগ্রামী জীবন। অন্ধকার এক রাতে বাবা-মাসহ হারিয়েছেন সবাইকে। কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না তাঁর চলার পথ। ত্যাগে আর নিরন্তর যুদ্ধ করেই সবকিছু অর্জন করেছেন জীবনে।

সংগ্রামমুখর এক জীবনের পঁচাত্তর বছরে পা রেখেছেন। নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, গতিশীল নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে শুধু দেশেই নন, বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মানবতার আলোকবর্তিকা, মমত্ববোধ, মহানুভবতা ও উদারনৈতিক মানসিকতার জন্য ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ অভিধায় ভূষিত চতুর্থবারের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিনকে স্বকীয় আবহে রাঙিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রমনা পার্ক প্রাঙ্গণে অধিকার বঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপনের মধ্যে দিয়ে পুনাকে আরও একটি মানবিক অধ্যায়ের সূত্রপাত করেছেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

পুনাকের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং ডিএমপির রমনা জোনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অভাব-অনটন, অবহেলা-অযত্ন, লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার রাজধানীর একঝাঁক পথশিশুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আনন্দ বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। নিজ হাতে তাদের মুখে কেক তুলে দিয়েছেন। উপহার দিয়েছেন বিরিয়ানি, চকলেট, মিষ্টি ও নানা রকমের ফল।

গল্পে গল্পে অনিশ্চিত জীবনের ছিন্নমূল পথশিশুদের সঙ্গে নিজেকে যেন প্রাণের মায়ায় জড়িয়ে নেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ পত্নী। অভিভাবকত্বের ছায়ায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠে নির্মম জীবনে থাকা ছিন্নমূল শিশুরা। ওদের চোখে-মুখে ফুটে উঠা উজ্জ্বল হাসির দ্যুতি প্রকারান্তরে পুনাক সভানেত্রীর মানবিকবোধকেই যেন জাগ্রত করেছে নতুনভাবেই।

শুধু তাই নয়, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি, তাঁর নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক দুর্গম সংগ্রামী জীবনের ইতিহাসও গল্পের আবহে উপস্থাপন করেন পুনাক সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উৎসবে যোগ দেওয়া পথশিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকূল পরিবেশের কারণেই ওরা কূলহীন সমুদ্রে পা বাড়িয়েছে। রাজধানীর ইস্কাটনের আশেপাশের বস্তি ও শান্তিনগরের আশেপাশের বস্তি এলাকা থেকে আসা এসব পথশিশুদের বেশিরভাগই জানা নেই নিজেদের জন্মদিনের কথা।

অন্ন জোগাতে কেউ বিক্রি করে বেলুন, ফুল, বোতল বা প্লাস্টিকের টুকরো। অনেকেই ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়ায় পথে পথে। চলতি পথেই বন্দোবস্ত হয় রুটি-রুজির। অভাব-অনটন, অবহেলা-অযত্ন, লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার হতে হয় প্রতিনিয়তই।

কিন্তু দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে শৈশবে শৈশব বিক্রি করা এসব কোমলমতি শিশু প্রাণকে অন্যরকম একটি দিনই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা। তাদেরই একজন আপন। বয়স তিন কী চার। মাতৃত্বের স্নেহে ফুটফুটে আপনকে কোলে নিয়ে আদর করেন মিসেস বেনজীর। অসহায় পরিবারটির পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে পুনাক সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা পথশিশুদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলাম।’ এ সময় তিনি শিশুদের কাছে তাদের জন্মদিনের কথা জানতে চান। উপস্থিত পথশিশুদের অনেকেই নিজের জন্মদিনের কথা জানে না।

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। আজ তোমাদেরও জন্মদিন। আজ সবার আনন্দের দিন। একটু ভালোবাসা, সহানুভূতি ও আন্তরিকতাই পারে পথহারা এসব শিশুদের সোনালী ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে, আলোর পথযাত্রী করতে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email